বদলে যাচ্ছে ভারত ও নেপালের সীমান্ত দৈর্ঘ্য!

ভারত ও নেপালের মধ্যে ১,৭৫১ কিলোমিটার সীমান্তের দৈর্ঘ্য পরিবর্তন হতে পারে। কারণ পূর্ববর্তী সীমানা সমীক্ষার সময় বাদ পরা বেশ কয়েকটি এলাকা পুনর্বিন্যাসকালে যোগ করা হবে।

আন্তর্জাতিক সীমানা জরিপের সঙ্গে যুক্ত কর্তারা জানান, ব্রিটিশ শাসনের অনেক আগেই এই সীমান্তের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে বোঝা যায় যে সীমান্তের মানচিত্র নিরপেক্ষভাবে তৈরি করা হয়নি এবং কিছু এলাকা সীমান্ত মাপার প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে। দু’দেশের সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে একটি ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’ ১৯৮০ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে পরিচালিত সব সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এসব সমীক্ষার পর সীমান্ত এলাকার যে মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে বর্তমানে সীমানা নির্ধারণের চেষ্টা হচ্ছে।

দেরাদুনের সার্ভে দপ্তরের ডেপুটি সার্ভেয়ার জেনারেল (টেকনিক্যাল) পঙ্কজ মিশ্র বলেন, ‘মৌলিক কাজগুলি সম্পন্ন হওয়ার পর আমরা সীমান্ত দৈর্ঘ্যের ব্যাপারে কথা বলতে পারি। এখানে আগের সীমান্ত নির্ধারণে বাদ পরা অনেকগুলো এলাকা অন্তর্ভুক্ত হবে। দু’দেশের সার্ভেয়ার জেনারেলদের অনুমোদনের ভিত্তিতে স্থল সীমান্তের বর্তমান পিলারগুলো পুনঃস্থাপন নিশ্চিত করা হবে। যেখানে কোনো সীমারেখা চিহ্নিত করা নেই সেখানে নতুন করে পিলার স্থাপন করা হবে।

ভারত-নেপাল সীমান্তে প্রায় ৪,০০০টি পিলার ছিল, যার বেশিরভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা বিলীন হয়ে গিয়েছে।’

জানা গিয়েছে, সীমান্তের ৯৮ শতাংশ অংশের মানচিত্র অনুমোদিত হয়েছে। অবশিষ্ট ২ শতাংশের সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয় জড়িত রয়েছে, যা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেপালের সঙ্গে আলোচনা করছে। দুই সরকার সীমান্ত এলাকার ২ শতাংশ অবস্থান স্থির করার পর চূড়ান্ত চুক্তি হবে।

নেপালের সঙ্গে ভারতের পাঁচটি রাজ্য, উত্তরাখণ্ড (২৬৩ কিলোমিটার), উত্তরপ্রদেশ (৫৬০ কিমি), বিহার (৭২৯ কিমি), পশ্চিমবঙ্গ (১০০ কিমি) এবং সিকিম (৯৯ কিমি)-এর সীমান্ত রয়েছে। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তের মতো ভারত-নেপাল সীমান্তে কোনো বেড়া নেই।

এর আগে ভারত ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি করার পর ২০১৫ সালে তা সংশোধন করে। ভারতের সংসদে ১০০তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই চুক্তি পাশ হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।