৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ডুয়েটের ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে তোলপাড়!

গাজীপুর : ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় গঠন করার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। ওই ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে সেখানে সঠিক সময়ে দায়িত্ব পালন না করার অজুহাতে ৫ শিক্ষককেও জড়ানো হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য বিশেষ একটি মহলকে খুশি করতে তদন্ত কমিটির প্রধান মনগড়া একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

এই প্রতিবেদনকে ঘিরে ডুয়েটে ফের শিক্ষক ও শিক্ষর্থীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ দিকে দেড় মাস পর আগামী রোববার (১৭ ডিসেম্বর) ডুয়েট ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া হবে বলে আজ বিকেলে ডুয়েটের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নিউজ ১৯৭১ডটকমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ডুয়েটের ডিন অধ্যাপক আবু নঈম শেখকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে ডুয়েটের ভিসি প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন তুমূল বির্তকের জন্ম দিয়েছেন। সেই বির্কতের মাত্রাটা তীব্রতর হয়েছে অধ্যাপক আবু নঈম শেখরের বানানো প্রশ্নবিদ্ধ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর। বহিষ্কৃত ৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রলীগের সক্রিয় বেশ কয়েকজন সদস্যও রয়েছে। শিবিরপন্থীদেরকে খুশি করার জন্য অধ্যাপক নঈম এ প্রতিবেদন করেছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছেন।

জানা যায়, নিজের কন্যাকে ডুয়েটে চাকরি দেওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে তদবির করে আসছিলেন অধ্যাপক নঈম। এদেরই একটা মহলকে খুশি করার জন্য ডুয়েটের ৫ শিক্ষককে সমন্বয়হীনতার জন্য দায়ি করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। অথচ ঘটনার সময় ডুয়েট ক্যাম্পাসে ছিলেন ভিসি, প্রক্টরসহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষক। তাদের কাউকে এ ঘটনায় সমন্বয়হীনার জন্য দায়ি করা হয়নি। শিক্ষকরা জানান, গভীর ষড়যন্ত্র করে ওই ৫ শিক্ষককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত ৩১ অক্টোবর রাতে পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পরদিন অনির্দিষ্টকালের জন্য ডুয়েট বন্ধ ঘোষণা করে দেওয়া হয় । পরে ডুয়েটের ডিন অধ্যাপক আবু নঈম শেখকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত শেষে বুধবার তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর ভিসি প্রফেসর ড. আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে ডুয়েটের বোর্ড অফ ডিসিপ্লিনের সভায় অভিযুক্ত আট শিক্ষার্থীকে একাডেমিক কার্যক্রম ও হল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার এবং জরিমানা করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন, হুমায়ূন কবির রাজু, রুহুল আমীন, সুমন মিয়া, তুষার চন্দ্র বর্মন, সোলায়মান রাজন,রবিউল ইসলাম,আব্দুর রহমান ও সাদ্দাম হোসেন। সুমন মিয়া, তুষার চন্দ্র বর্মন ও হুমায়ূন কবির রাজুকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম ও হল থেকে আজীবন বহিষ্কার এবং তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে বলে ডুয়েট সূত্র জানিয়েছে।
ডুয়েটের একটি সূত্র বলছে, শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও ভাংচুর করার সময় ভিসি ড. আলাউদ্দিন তাদেরকে শান্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে শিক্ষার্থীদেরকে তিনি শান্ত হওয়ার জন্য আহবান জানান। তার আহবান শুনে শিক্ষার্থীরা আরো বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। ডুয়েটের একটা মহল বলছে, এই ঘটনা এতো বড় হওয়ার কারণ হলো ভিসির বিচক্ষণতার অভাব। এর চেয়ে বড় অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তুমূল বিতর্কিত অধ্যাপক নঈম শেখকে তদন্ত কমিটির প্রধান করায়। সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা জানান, তুচ্ছ একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের জীবন নিয়ে খেলায় মেতেছে ডুয়েট। অথচ এই আন্দোলনের সঙ্গে অনেকেই যুক্ত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে ডুয়েটের ভিসি প্রফেসর ড. আলাউদ্দিন বলেন, শিক্ষকদের সমন্বয়হীনতার কারনে এমনটা ঘটেছে এটা বলা ঠিক নয়। ছাত্রের সাথে শিক্ষকের সম্পর্ক হলো পিতা পুত্রের মতো। অন্যান্য বিষয়গুলো তিনি এড়িয়ে যান। যোগাযোগ করা হলে ওই তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ড. নঈম শেখ বলেন, আমরা আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি। এটা অত্যন্ত গোপনী বিষয়, সুতরাং এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। ডুয়েটের পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন , এ রকম ঘটনা ঘটলে প্রক্টর বা এই লেবেলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেই থাকে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে যে পক্ষপাতীত্ব করা হয়েছে সেটা কী করে বলি ?

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।