গণতান্ত্রিক অধিকারের কি সীমা নেই?

বাংলাদেশে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ৬৪ জন মানুষ নিহত হচ্ছে, অমুল্য প্রাণহানীর পাশাপাশি প্রতিবছর অর্থনীতিতে ৩৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। আবার এমন বাস্তবতামধ্যেও সড়কে নির্বিচার মানুষ হত্যার অধিকার দাবিতে পরিবহন-শ্রমিকদের সংঘটিত জ্বালাও পোড়াও ধর্মঘট করতে দেখা গেছে। অমানবিক সেই ধর্মঘটে এমনকি প্রভাবশালী এক মন্ত্রী যিনি এখনও মন্ত্রী- প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে সাফাইও গেয়েছে। এদিকে, এমত অনৈতিক আবদার এবং তার পৃষ্ঠপোষকতায় অনুপ্রাণিত ব্যক্তিরা ভেজাল কর্ম ও ভেজাল খাদ্যের পাশাপাশি জীবন রক্ষাকারী ওষুধেও ভেজাল দিতে শুরু করেছে, যা দণ্ডবিধি প্রয়োগে উদারতার দরুন প্রতিনিয়ত পরিসংখ্যান হয়ে যাওয়া বেসুমার মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যেতে পারে- দীর্ঘ ৮ বছর আগে ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করে সারাদেশে ২৮টি শিশু মরে গিয়ে দেশদুনিয়াজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও সেই ঘটনার হোতারা আজও দণ্ডমুক্ত স্বাধীন জীবনযাপন করছে। 


অবিচারের উদাহরণ হয়ে যাওয়া এসমস্ত ঘটনাই অপরাধীদের অনুপ্রেরণা। যেজন্য গেলবছর নকল ও ভেজাল ওষুধ সংক্রান্ত ২ হাজারের বেশি মামলা হলেও ওষুধের নামে এইসমস্ত বিষের উৎপাদন ও বিক্রয় ব্যাহত হচ্ছে না। এমনকি তারা উল্টো সড়কে অবাধ হত্যার অধিকার আদায়ে শ্রমিকদের সংক্ষুব্ধ ধর্মঘটের মতো ভেজাল ও নকল ওষুধ খাইয়ে মানুষ মারার নির্বিবাদ অধিকার চাচ্ছে। এজন্য গতপরশু চট্টগ্রামে ভেজাল, নকল ও নিন্মমানের ওষুধ সন্ধানে র‍্যাব ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে কিছু টাকা জরিমানা করলে তারা প্রায় আড়াই হাজার ওষুধের দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট কায়েম করছে। এবং এগুলোকে ওদের গণতান্ত্রিক অধিকার গণ্য করা হচ্ছে; গণস্বার্থের পুরোপুরি প্রতিকূল অর্থাৎ বিনাবিচারে মানুষ হত্যার অধিকার চেয়ে করা ধর্মঘট নামক এইসব প্রতিবাদী প্রয়াসকে এদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে !

 (চারু হকের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।