যেভাবে পাবেন ভারতীয় ভিসা

ভিসার আবেদন করার আগে দেখতে হবে আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বনিন্ম ছয় মাস আছে কিনা। আবেদন পত্র জমা দেওয়ার দিন যদি আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের কম থাকে তাহলে আপনি ভিসা পাবেন না।
Exif_JPEG_420
মেয়াদ এখানে চেক করুন
ই টোকেনের একটা ব্যাপার ছিল সেটা শুধু ট্যুরিস্ট ভিসার জন্যেই লাগত। ২০১৭ থেকে সেটার আর প্রয়োজন হচ্ছে না।
%e0%a7%83%e0%a7%81%e0%a6%be
ই টোকেন
তাই কোন ভিসার জন্য  ই টোকেন নিতে হয়না। টুরিস্ট ভিসা সহ অন্য ভিসার ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন পত্র পুরণ করে আবেদনপত্র পুরণ করার চার দিনের মাঝে এটা প্রিন্ট করে  সব কাগজ পত্র নিয়ে  সরাসরি এম্বাসীতে যাবেন সিরিয়ালে কাগজপত্র জমা দিবেন ব্যাস কাজ শেষ ।।
 
ট্যুরিস্ট ভিসা:  অনলাইনে ফরম পূরণ করবেন আগে। তবে ট্যুরিস্ট বলে না প্রায় সব ভিসাতেই এটা করতে হবে।
Exif_JPEG_420
দালালদের এখানে পাবেন চট্টগ্রামে
যে কোন কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে বা নিজেই কম্পিউটারেই এই ঠিকানায় গিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করুন।’ এই ফর্ম পূরণ করতে দোকানভেদে ১৫০-৩০০ টাকা নিতে পারে।
আর চট্টগ্রাম দূতাবাসের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ট্যুরিস্ট ভিসার জন্যে কোন ইটোকেন বা নিশ্চিত টিকেট জমা দিতে হবে না। শুধু ফর্ম প্রিন্ট করে বাকী কাগজপত্র সহ জমা দিলেই মিলবে ভিসা।

কদিন আগে ভারতে আসা যাওয়ার নিয়ম সহজ করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ভারতীয় হাই কমিশন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়. “২৪টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এবং হরিদাসপুর ও গেদের সমন্বিত চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসায় প্রবেশ/প্রস্থান নিষেধাজ্ঞা অপসারণ করা হয়েছে।” হরিদাসপুর মানে হলো আমাদের যশোরের বেনোপোল বর্ডার। আর গেদে হলো আমাদের কুষ্টিয়ার দর্শনা বর্ডার। হরিদাসপুর দিয়ে বাসে যেতে পারবেন আর গেদে দিয়ে ট্রেনে। যদি অন্য কোন স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যেতে চান তাহলে সেই বর্ডারের ভিসা করতে হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে স্থলবন্দর আছে ৩২টি। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এর মধ্যে যে কোনো একটি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়া-আসার ভিসা থাকলে তিনি ভারতের যে কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হরিদাসপুর বা গেদে স্থলবন্দর দিয়েও যাওয়া আসা করতে পারবেন, সেজন্য আলাদা করে অনুমতি নিতে হবে না।

ভারতের এই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে আহমেদাবাদ, আমৌসি (লখনৌ), বেনারস, ব্যাঙ্গালোর, কালিকট, চেন্নাই, কোচিন, কোয়েম্বাতোর, ডাবোলিম (গোয়া), দিল্লি, গয়া, গুয়াহাটি, হায়দ্রাবাদ, জয়পুর, কলকাতা, ম্যাঙ্গালোর, মুম্বাই, নাগপুর, পুনে, অমৃতসর, ত্রিচি, ত্রিবান্দ্রম, বাগডোগরা ও চন্ডিগড়।

 
ই টোকেন পেয়ে গেলে জমা দিবেন:
 
১। অনলাইনে আবেদনের অরিজিনাল কপি। অবশ্যই দুইটি আলাদা A4 পৃষ্ঠায় একপিঠ করে প্রিন্ট করবেন।
%e0%a7%83%e0%a7%81%e0%a6%be
অনলাইন আবেদনপত্র
 
২। আবেদন পত্রের উপরের ডানদিকে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড যুক্ত 2”x2”সাইজের ছবি আঠা দিয়ে লাগাতে হবে, তার নিচে ও দ্বিতীয় পৃষ্ঠার শেষে সাইন করতে হবে, সাইনটি অবশ্যই পাসপোর্টের সাইনের সাথে মিল থাকতে হবে।
 
৩।  সর্বশেষ ৩ মাস বা তার অধিক সময়ের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর ফটোকপি এবং অরিজিনাল কপি দিতে হবে, অরিজিনাল কপির উপর অবশ্যই ব্যাংক এর সিল থাকতে হবে, এবং উক্ত স্থানে ব্যাংক এর যোগাযোগ ফোন নম্বার থাকতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট এ অবশ্যই ১৬-২০ হাজার টাকার সর্বশেষ ব্যালেন্স দেখাতে হবে। আপনার বাবার হলেও চলবে।
 
যদি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকে ১৪০৪৫ টাকাতে (সর্বশেষ মার্চ ২০১৭)  এম্বাসির ভেতরের ভারতীয় স্টেটব্যাংককে দিলেই একটি ট্রাভেল কার্ড দিবে। সেটার ফটোকপি করে জমা দিবেন।
ট্রাভেল কার্ড
ট্রাভেল কার্ড
 
তবে এটা না করে দালালকে ৩০০ টাকা দিলেই আপনি ব্যাংক থেকে ১৫০ ডলার কিনেছেন এরকম একটা ফেইক কাগজ তৈরি করে দিবে। তবে এ পদ্ধতিতে সব সময় কাজ হয় না। 

ডলার এনডোর্স করে নিতে পারেন সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা থেকে। কোন শাখা থেকে করা যাবে তা আগে এম্বাসির আশপাশের এজেন্ট থেকে  খোঁজ নিয়ে যাবেন। চট্টগ্রামে সোনালী ব্যাংক ওয়েজ আর্নাস শাখা, দেওয়ানহাট থেকে করতে পারবেন। ব্যাংক ফি দিতে হবে ২৪০টাকা। আর যত ডলার নিবেন তত ডলারের ঐ সময়ের রেট দিতে হবে।  পুরোটা শেষ করতে সময়  লাগবে দশ মিনিট।সাথে অরিজিনাল পাসপোর্ট নিবেন। স্বাক্ষর দিবেন পাসপোর্টের স্বাক্ষরের মত। সকাল-১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ডলার এনডোর্সমেন্ট করা হয়। এর আগে বা পরে ডলার এনডোর্স করা হয় না।

সর্বোচ্চ ২০০ডলার করতে পারবেন। তারা একটা সার্টিফিকেট দিবে সেটা জমা দিতে হবে।

 
৪। আপনার পাসপোর্ট এর প্রথম ৮ পৃষ্ঠা(১ম থেকে ভিসার পাতা পর্যন্ত) ও শেষ পৃষ্ঠার ফটোকপি দিবেন।
 
৫। জন্ম নিবন্ধন+জাতীয় পরিচয় পত্র+নাগরিক সনদ এর ফটোকপি দিবেন। তবে যে কোন একটি দিলেই হবে না। যেটি দিয়ে আপনি পাসপোর্ট করেছেন সেটিই দিতে হবে।
 
৬। ভিসা ফী ৬০০ টাকা ।
 
৭। বর্তমান ঠিকানার গ্যাস,বিদ্যুৎ, পানি যে কোন একটির বিল। আপনার নামে হতে হবে কথা নেই। ঠিকানা মিললেই হলো।
৮। বর্তমানে ভিসার জন্যে ই-টোকেন সিস্টেম উঠিয়ে ভারতে যাওয়ার বাসের টিকেট থাকলেই ভিসা দেয়া হচ্ছে। তাই ভিসার আবেদন করার আগে বাসের টিকেট করে সেই টিকেট ও জমা দিবেন। হাতে মূল কপি রাখবেন আর কপি ওদের জমা দিবেন।
 
৮। যদি ট্রেনিং ভিসা হয় তাহলে সেই দেশ থেকে পাঠানো ট্রেনিং এর কাগজ ্ এ দেশ থেকে যে সংগঠনে আছেন সেটার কাগজ জমা দিতে হবে।
 
বিজনেস ভিসা হলে সে দেশের ইনভাইটেশন এর কাগজ জমা দিতে হবে।
 
মেডিকেল ভিসা হলে ডাক্তারের কাগজপত্র সহ জমা দিতে হবে। বাংলাদেশে সর্বশেষ করা কিছু টেস্ট এর রিপোর্ট লাগবে।বাংলাদেশে যে ডাক্তারকে দেখালেন তার নাম, প্রেসক্রিপশান, ডকুমেন্টস লাগবে। আর ভারতে যেখানে চিকিৎসা করাবেন, সেখানে ডাক্তারের অ্যাপোয়েনমেন্ট লেটার দেখানোর প্রয়োজন হবে। অবশ্য এসব কম্পিউটারের দোকান গুলো থেকে আকছার ফেক করে ও যাচ্ছে অনেকে। এসব সিরিয়াস কোন ব্যাপার না।
ভয়ের কিছু নেই। আপনি যে ডাক্তারের নাম ঠিকানা দিবেন শুধু তার কাছেই যে ট্রিটমেন্ট করতে পারবেন তা কিন্তু নয়। ইন্ডিয়ার যেখানেই ইচ্ছা যেয়ে ডাক্তার দেখাতে পারবেন।
তাহলে মেডিকেল ভিসার টা একসাথে দেখে নেয়া যাক :
১. অনলাইন ফরম
২. এনআইডি/জন্ম নিবন্ধন কপি
৩. বিদ্যুৎ বিল কপি।
৪. ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ডলার সার্টিফিকেট।
৫. পেশার কাগজপত্র (চাকুরী হলে এনওসি ব্যবসা হলে ট্রেড লাইসেনস কপি)
৬. বাংলাদেশের মেডিকেল রিপোর্ট ও প্রেসক্রিপশন
৭. বাংলাদেশের ডাক্তার রেফার্ড কাগজ
৮. ভারতের ডাক্তারের এপোয়েন্টমেন্ট
৯. পাসপোর্টের কপি
১০. সর্বশেষ কোন ভিসা থাকলে সেটার কপি
 
 
ফর্ম জমা দেওয়ার অফিসে আপনাকে কোন প্রকার ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করতে দিবে না, তাই একটা ফাইলে করে কাগজ-পত্র নিয়ে যাবেন, ফাইল নিয়ে প্রবেশ করতে দিবে।
সব কাগজ রেডী করে ভারতীয় ভিসা সেন্টারে চলে যান। এখানে খুব ভিড় থাকে তাই সকাল সকাল গেলে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে আসতে পারবেন ।
14194355_509682575909050_254988436_n
 টুরিস্ট ভিসা সাধারণত ছয়মাসের মাল্টিপল  ভিসা দেওয়া হয় এই সময়ের মধ্যে আপনি যতবার ইচ্ছা ততবার প্রবেশ এবং বাহির হতে পারবেন । মেডিকেল ভিসা হলে দুজনেরই ছয় মাসের ভিসা। আর তিন বার আসা যাওয়ার সুযোগ আছে। রোগী ভারতে না থাকলেে এটেডেন্স ভিসায় প্রবেশের অনুমতি নেই।
14365363_512988772245097_605727298_n
 
 
ঢাকাতে ভিসা ডেলিভারি দিতে দুই তিনদিন সময় লাগে আর ঢাকার বাইরে সাধারণত এর পরের দিনই দিয়ে দেয় ।
 
এম্বেসীতে কাগজপত্র জমা দিলে আপনাকে একটা টোকেন দেওয়া হবে আপনি অথবা যে কেউ এই টোকেনটা নিয়ে গেলেই পাসপোর্ট ভিসা দিয়ে দিবে ,অর্থাৎ ভিসা সংগ্রহের সময় আবেদনকারী না গেলেও চলবে ।।
 
 
Website: http://www.hcidhaka.org
 
 
ভারতীয় ভিসা সেন্টার আছে
 
 
ঢাকা (মতিঝিল,গুলশান, ধানমন্ডি),চট্রগ্রাম,সিলেট ,রাজশাহী,খুলনা ,ময়মনসিংহ,বরিশাল ও রংপুর।
যোগাযোগ: 
 
 
House No. 2, Road No.142 
Gulshan-1, Dhaka-1212 , Bangladesh. 
 
Telephone No- 9889339 
EPABX : 9888789-91,8820243-47 
Fax : 00-88-02-9890213(Visa Section) 
E-mail: visa@hcidhaka.org 

11 thoughts on “যেভাবে পাবেন ভারতীয় ভিসা

  • Pingback: বছর জুড়ে কলকাতার দিনগুলি - News1971

  • Pingback: ভেলোরে চিকিৎসার জন্যে যাবেন? - News1971

  • Pingback: লক্ষণ সেনের শহর থেকে নবাবের দেশে | AponVubon - Lifestyle Mag

  • Pingback: ভারতে ডাক্তার দেখাতে যাবেন? - News1971

  • জুলাই 15, 2017 at 4:11 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    আমার হরিদাসপুরের ভিসা আছে, আমি কি অন্য কোন বোর্ডার বা চেকপোস্ট দিয়ে ভারত যেতে পারব না??
    আর যেতে হলে কি করতে হবে??
    অবশ্যই বলবেন প্লিজ
    ধন্যবাদ।

    Reply
    • জুলাই 15, 2017 at 11:14 পূর্বাহ্ন
      Permalink

      যদি আপনার হরিদাসপুরের/গেদে বর্ডারের ভিসা থাকে তাহলে অন্য বর্ডার দিয়ে যাওয়া আসা করা যাবে না। যদি আপনার আগরতলা বা এ অন্য যে কোন বর্ডার দিয়ে ভিসা থাকে তাহলে আপনি বিমানে বা হরিদাসপুরে অথবা গেদে দিয়ে যেতে পারবেন।

      Reply
      • জুলাই 15, 2017 at 2:06 অপরাহ্ন
        Permalink

        ধন্যবাদ

        Reply
  • আগস্ট 9, 2017 at 11:49 পূর্বাহ্ন
    Permalink

    আমার পাস্পোর্ট এ প্রফেসন স্টুডেন্ট দেয়া। কিন্তু স্টুডেন্ট আইডির ভ্যালিডিটি শেষ। জবেও জয়েন করিনি। এখন জব/ ছাত্রত্বের প্রমান স্বরুপ কোন ডকুমেন্ট না থাকলে কি কোন সমস্যা হবে। নাকি ভার্সিটির সার্টিফিকেট দিয়ে কাজ চালানো যাবে?

    Reply
    • আগস্ট 12, 2017 at 4:20 অপরাহ্ন
      Permalink

      সার্টিফিকেট দিন।

      Reply
  • সেপ্টেম্বর 17, 2017 at 5:33 অপরাহ্ন
    Permalink

    আমি পাসপোর্ট জমা দিয়ে আসার সময় এক্সিডেনটে গুরুতর অহত হই। এবং অফিসের দেওয়া টোকেন হারিয়ে যায়। তবে আমার কাছে ঐ টোকেনের মোবাইলে তোলা ছবি আছে। আমি অসুস্থ কারণে যেতে পারছি না।আমি কি কাউকে পাঠালে হবে ।

    Reply
    • সেপ্টেম্বর 27, 2017 at 9:25 অপরাহ্ন
      Permalink

      আমি গত সপ্তাহে ভিসা কেন্দ্রে একটি নোটিশ বোর্ডে দেখেছি, টোকেন হারিয়ে গেলে তার ফটোকপি গ্রহণযোগ্য নয়। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানায় হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি উল্লেখ করে জিডি করতে হবে। জিডির কপি নিয়ে গেলে পাসপোর্ট পাবেন। আর, নিজের পাসপোর্ট এখন অন্যকে দেওয়া হয় না। ভাই-বোন বা পরিবারের কেউ যদি তার নিজের পাসপোর্ট সঙ্গে নিয়ে যায়, তাহলে আপনার পাসপোর্ট তার হাতে দেবে।

      – জয়নাল

      Reply

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।