মনোনয়ন দৌঁড়ে এমপিপুত্র দুর্জয় এবং ইকবাল হোসেন সবুজ

রহমত আলীর আসন এবার কার হাতে?

বয়সজনিত কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী। বিপুল বিজয়ের পর এখনও সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন, এমন অনেকেই বাদ পড়তে পারেন বলে একেটি সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

রাজধানীর উপকণ্ঠ গাজীপুরকে ‘দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। গাজীপুর-৩ আসনে বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট রহমত আলী। বয়সের ভারে ন্যূজ্ব এই সাংসদকে এবার মনোনয়ন না-ও দেওয়া হতে পারে। দলীয় উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

রহমত আলী মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হলে তাঁর আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট কার হাতে যাবে— এ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে গরম হাওয়া বইছে। তৃণমূলের রাজনীতিতে ব্যাপক জনপ্রিয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনই কি এবার সংসদ সদস্য  হিসেবে মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন? নাকি এমপি রহমত আলীর ছেলে জামিল হাসান দুর্জয়ই হয়ে ওঠেন পিতার উত্তরসূরি?

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের টিকিটে কে আসছেন নতুন মুখ— সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। এ নিয়ে বিভিন্ন রকমের গুঞ্জন রয়েছে। বয়সের কারণে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রহমত আলী আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না— এমন আভাস পেয়ে এই আসনের দলীয় কর্মী সমর্থকদের মধ্যেও বিরাজ করছে চাঞ্চল্যতা। দুর্জয় এবং সবুজের পক্ষ হয়ে বিভিন্নভাবে মনোনয়ন যুদ্ধের প্রচারণাও শুরু হয়ে গেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, এমপি রহমত আলী নিজের ছেলেকে আসনে বসানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্থানীয় রাজনীতি এবং জনমত বিবেচনায় সেদিক থেকে ইকবাল হোসেন সবুজকেই এগিয়ে রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার আশংকা কেবল রহমত আলীর একার না, এই তালিকায় আছেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীও; যাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী ছিলেন এবং অনেকে বর্তমানে সাংসদ।

দলের জরিপ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ রিপাের্ট ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ভোটযুদ্ধের রণকৌশল থেকেই এমনটি করা হচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কঠিন নির্বাচন ধরেই শেখ হাসিনা দলের ঐক্য এবং মনোনয়নের ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার দু’টি মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে যারা সংসদে রয়েছেন, তাদের এক তৃতীয়াংশই মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে হাইকমান্ড এসব সংসদ সদস্যের আসনে বিকল্প প্রার্থী যাচাই বাছাই করছেন। নির্বাচনে বিকল্প প্রার্থী হিসাবে অনেককে সবুজ সংকেতও দেয়া হয়েছে। বর্তমান মন্ত্রিসভার অন্ততপক্ষে চার-পাঁচ জন প্রবীণ সদস্য আছেন, যারা স্বেচ্ছায় মনোনয়ন দৌঁড় থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। একাধিক প্রবীণ মন্ত্রী নিজ নিজ পুত্রের পক্ষে মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার চেষ্টায়রত রয়েছেন। ১৯৯৬-০১ এবং ২০০৮-১৩ মেয়াদের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও বেশ ক’জন নিজ নিজ এলাকায় উত্তরাধিকারী তৈরিতে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন।

পাশাপাশি ওই দুই মেয়াদের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে যারা সর্বশেষ নির্বাচনে মনোনয়ন হাতছাড়া করেছেন তাদের অনেকে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ইতোমধ্যেই বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে যোগ্যদের মূল্যায়ণের কথা জানিয়েছেন। মন্ত্রিসভায়ও যোগ-বিয়োগের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই মন্ত্রিসভাকে ঢেলে সাজাবেন। যাদের অযোগ্য ও বিতর্কিত মনে করবেন তাদের বাদ দেবেন। তিনি বলেন, বিতর্কিত  কাউকেই আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না।

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, আমেজ ঘনীভূত হচ্ছে। কমবেশি সব আসনেই আগামী নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে গরম হাওয়া বইছে। নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ গাজীপুর-৩ আসনের সাধারণ ভোটার-সমর্থকেরাও তাকিয়ে সেদিকে। কে আসছেন এই আসনে এমপি রহমত আলীর উত্তরাধিকার হয়ে। এই নিয়েও কৌতুহল যেন কাটে না।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।