চাঁদা না পাওয়ায় নববধূকে ধর্ষণ করলেন ছাত্রলীগ সভাপতি

এক লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় টেম্পুচালক স্বামীকে বেঁধে নববধূকে (২২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে।

রোববার বিকেলে অভিযুক্ত সুমন মোল্লা ছাড়াও অজ্ঞাত চার-পাঁচ সহযোগীকে আসামির  বিরুদ্ধে  বানারীপাড়া থানায় মামলা করেছেন নির্যাতিতা গৃহবধূ।

সুমন হোসেন মোল্লা বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি  বেতাল গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন মোল্লার ছেলে।

নির্যাতিত ওই নববধূ বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুরের বাসিন্দা ও টেম্পুচালক সেলিমের স্ত্রী। সেলিম চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে তিনি টেম্পু চালাতেন।

টেম্পুচালক সেলিম জানান, ১৫ দিন আগে চট্টগ্রাম থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বানারীপাড়ায় আসেন তিনি। কিন্তু প্রথম স্ত্রী কোনোভাবে দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করেন তারা।

তিনি বলেন, ‘গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার বেতাল গ্রামে নানা শামসুল হাওলাদারের বাড়িতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে উঠি আমরা। খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা সুমন দলবল নিয়ে এসে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়।’

সেলিম জানান, বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সেলিম ও তার স্ত্রীকে নিয়ে ওই গ্রামের বেতাল ক্লাবের পাশের একটি কক্ষে আটকে রাখেন সুমন হোসেন মোল্লা। পরে তাকে এখানে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে নিয়ে যায় ফুফু আনোয়ারা বেগমের বাসায়। সেখানে গিয়েও চাঁদার টাকা দাবি করেন সুমন। দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় ফুফু আনোয়ারা বেগমকে একটি কক্ষে আটকে রেখে সেলিমের স্ত্রীকে রাতভর ধর্ষণ করে সুমন মোল্লা।

পরে সেলিমের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে তাকে উদ্ধার করে। এরপর সেলিম তার ফুফুর বাসায় এলে স্ত্রী ধর্ষণের বিষয়টি খুলে বলেন। ধর্ষণের সময় সুমনের সঙ্গে আরও চারজন ছিলেন বলেও জানান তিনি।

বানারীপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ। ওই গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেডিকেলে পাঠানা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।