গণবিচ্ছিন্ন ভোটারবিহীন সরকার সীমা ছাড়িয়ে গেছে : খালেদা জিয়া

দেশকে একদলীয় দুঃশাসনে চরম অন্ধকারে নিপতিত করতে বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন ভোটারবিহীন সরকার এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, আর এই চরম সীমা লঙ্ঘনের কারণেই দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে উন্মুক্ত কোনো স্থানেই নয় বরং ঘরোয়া পরিবেশেও সভা কিংবা আলাপ-আলোচনা অনুষ্ঠান করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম  আব্দুর রবের বাসায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বৈঠকের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এবং সভা শেষ করতে তাগাদার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া।

বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, পুলিশি বাধা অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে হামলা চালিয়ে সেসব সভা ও আলোচনা নস্যাৎ করতে যে ন্যাক্কারজনক অসদাচরণ করা হচ্ছে, সেটির ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই। আ স ম আব্দুর রবের  বাসভবনে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সিনিয়র নেতাদের সভায় পুলিশি হস্তক্ষেপে আবারও প্রমাণিত হলো রাষ্ট্র এখন অমানবিক এবং চরম গণবিরোধী।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্রশূন্যতার কারণেই আইনের শাসন নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। সরকারি মদদে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ভোটারবিহীন সরকারের আনুগত্য করতে গিয়ে তারা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছে। বিরোধী দল ও বিরোধী মত দমন করতে পুলিশকে লাগামহীন লাইসেন্স দেওয়ার কারণেই সামাজিক অপরাধগুলো প্রশ্রয় পাচ্ছে তীব্র মাত্রায়।

তিনি বলেন, অনাচার বৃদ্ধির কারণেই শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ এখন ভয়-ভীতি-শংকার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। অশুভ উদ্দেশ্যেই দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আ স ম আব্দুর রবের বাসায় পুলিশ প্রবেশ করেছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে- রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে একটা ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে টু শব্দ করতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী থাকার জন্য বর্তমান সরকার যাদের প্রতিপক্ষ মনে করে, তাদের নির্মূল করতে নানা পন্থা অবলম্বন করেছে। তারই অংশ হিসেবে রবের বাসায় বৈঠক না করতে পুলিশকে ব্যবহার  করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ এখন আরও বেশি সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ। সময় অতি সন্নিকটে, যখন জনগণের সম্মিলিত গণরোষে এই নিপীড়ক সরকারের মূলোৎপাটন ঘটবে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই- গণবিরোধী জুলুমের পথ থেকে অবিলম্বে সরে আসুন। অন্যথায় যুগে যুগে সব স্বৈরাচারের মতোই আপনাদের পরিণতি বরণ করতে হবে।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।