কবি আহসান হাবীবের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ত্রিশোত্তর আধুনিক বাংলা কবিতার ধারায় পূর্ব বাংলায় নব্য আধুনিকতার পথিকৃৎ কবি আহসান হাবীবের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

১৯৮৫ সালের এই দিনে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন তিনি।

আহসান হাবীব ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কলকাতা গিয়ে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। আজীবন তিনি ওই পেশাতেই নিয়োজিত ছিলেন। তিনি আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় এসে বিভিন্ন সময়ে আজাদ, মোহাম্মদী, কৃষক, ইত্তেহাদ ইত্যাদি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি ফ্রাংকলিন পাবলিকেশনসের প্রডাকশন অ্যাডভাইজার ছিলেন।

পরে কিছুদিন দৈনিক পাকিস্তানে কাজ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

আহসান হাবীব আধুনিক কাব্যধারার কবি। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালে ১৯৩৩ সালে স্কুল ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ‘ধর্ম’ প্রকাশিত হয়। ১৯৩৪ সালে প্রথম কবিতা ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ ছাপা হয় পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল ম্যাগাজিনে। তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘রাত্রিশেষ’ ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ ‘ছায়াহরিণ’, ‘সারা দুপুর’, ‘আশায় বসতি’, ‘মেঘ বলে চৈত্রে যাবো’, ‘দুহাতে দুই আদিম পাথর’, ‘প্রেমের কবিতা’, ‘বিদীর্ণ দর্পণে মুখ’ ইত্যাদি।

এ ছাড়া দুটি উপন্যাস ‘অরণ্য নীলিমা’ ও ‘রাণীখালের সাঁকো’;  শিশুতোষ গ্রন্থ ‘জ্যোত্স্না রাতের গল্প’, ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’, ‘ছুটির দিনে দুপুরে’ ইত্যাদি।

সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ইউনেসকো সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, একুশে পদকসহ নানা পুরস্কার লাভ করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।