বাবুলের বিপক্ষে সুর বদলালেন মিতুর বাবা মা!

এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যাকান্ড নিয়ে এবার ভিন্ন সুর মিতুর বাবা মায়ের। শুরু থেকে তারা বাবুল আক্তারের সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে না দাবি করে আসলেও সম্প্রতি তারা বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ করেছেন। বিপরীতে বাবুল আক্তার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জবাব দিয়েছেন তাকে নিয়ে তোলা অভিযোগের।

মিতুর বাবা মা বলছেন বাবুল আক্তারকে সন্দেহ করার অনেক কারণ রয়েছে। তাদের দাবি, মোশারফ হোসেন ও শাহিদা মোশারফের অভিযোগ, মিতুকে তার স্বামী ও স্বামীর পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন করতো। একাধিকবার ও সুইসাইড করতে চেয়েছিল। বাড়িতে চলে আসার চেষ্টা করেছিল। বাবুল তাকে আসতে দেয়নি।

এতদিন দুই নাতি-নাতনির কথা চিন্তা করেই মুখ খোলেননি উল্লেখ করে তারা বলেছেন,বাবুল আক্তার তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ায় এখন তারা মুখ খুলছেন।

বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশারাফ হোসেন বলেন, ‘ ঘটনার পর থেকেই সে কোনও কথা স্পষ্ট করে বলছে না। এমনকি গোয়েন্দা কার্যালয়ে তাকে নিয়ে যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, কী নিয়ে কথা হয়েছে, তারও কিছুই জানায়নি সে। চাকরি থেকে তাকে জোরপূর্বক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, নাকি পদত্যাগপত্র লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাও কোনও দিন শেয়ার করেনি। চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য কোনও আবেদনও করেনি। সবসময় তার মধ্যে কিছু তথ্য আড়াল করার প্রবণতা দেখা গেছে। যদি সে জড়িত না হয়, তাহলে সে এমন আচরণ করবে কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগে এতটা বুঝিনি। এখন বুঝতে পারছি যে, মিতু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সে (বাবুল আক্তার) জড়িত থাকতে পারে। তা না হলে সে আমাদের বাসা থেকে কেটে পড়লো কেন? এখন কেন নাতি-নাতনিদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করতে দেয় না? ও ভেবেছিল সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন আর কেউ তার সম্পৃক্ততা খুঁজে পাবে না। সে এই অপেক্ষায় ছিল!’

বাবুল আক্তারের শ্বশুর বলেন, ‘মিতু হত্যার পর বাবুল আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি। খবরও দেয়নি। অন্যদের কাছে শুনেছি। মামলার বাদীও সে হয়েছে। কিন্তু বাদী হিসেবে সে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে না। একবারের জন্যও সে চট্টগ্রাম যায়নি। পুলিশ যখন তাকে তলব করেছে, তখনই গেছে। এসবই তো বলে দেয়, সে এই ঘটনার সঙ্গে কোনও না কোনোভাবে জড়িত।’

বাবুল আক্তারের শাশুড়ি শাহিদা মোশারফ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিন আগে মিতু ফোন করে বলেছিল, মাহিরের বাবা (বাবুল) আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়ে গেছে। আমি তাকে বলেছি, তা হলে তো ভালোই। সংসার করো। সুখে-শান্তিতে থাকো। কিন্তু এই ভালো হওয়ার পেছনে যে অন্য কারণ ছিল, তা বুঝিনি। মিতুর দুটি বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে এতদিন মুখ খুলিনি। ভেবেছি, মিতু নেই, বাবাও যদি না থাকে বাচ্চা দুটি কাকে নিয়া বাঁচবে? মাহির আমাদের বলতো, আমার বাবাকে পুলিশে দিও না। এখন নাতি-নাতনিকে যেহেতু বাবুল নিয়ে গেছে, তখন মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি। আমরা জানতে চাই, মিতুকে কেন হত্যা করা হলো? এর নেপথ্যের কারণ কী? আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাবুলের বাসায় ফাতেমা নামে যে কাজের মেয়ে ছিল, সে আমাদের বলেছে মিতুকে সবসময় গালাগালি করত বাবুল। মানসিক নির্যাতন করত। আমার মেয়েটাকে না মেরে যদি আমাদের কাছে ফেরত দিত, তাহলে আমরা কিছু বলতাম না।’

মোশারফ হোসেন বলেন, ‘একটা বিষয় লক্ষ করে দেখুন। মিতু হত্যার ১৫ দিন আগে বাবুলের বাবা চট্টগ্রাম ছেড়ে চলে এসেছেন। হত্যাকাণ্ডের ২-৩ দিন আগে বাবুলও ঢাকায় চলে এসেছে। যেন তাদের কেউ সন্দেহ করতে না পারে। এইটা ষড়যন্ত্রেরই অংশ। পুলিশ এগুলো ভ্যারিফাই করুক। তাহলেই মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। সেই স্ট্যাটাসে  তিনি তারা বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।