কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা

বৌলাইয়ে বাল্য বিবাহ ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে লাল কার্ড বিষয়ক কর্মশালা

‘‘থাকলে শিশু বিদ্যালয়ে, হবেনা বিয়ে বাল্যকালে, থাকলে শিশু লেখাপড়ায়, সফল হবে জীবন গড়ায়” এই প্রতিপ্রাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নে “বাল্য বিবাহ ও যৌন হয়রানিকে লাল কার্ড বিষয়ক সচেতনামূলক” কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ ও সৈয়দ হাবিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা গর্ভন্যান্স প্রজেক্ট (ইউজেডজিপি) এর সহযোগিতায় সৈয়দ হাবিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মাসউদ এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মোঃ আক্তার জামীল।

এছাড়া, কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলার চেয়ারম্যান  এ্যাডভোকেট মো: শরিফুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান, সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, ইউজেডজিপি এর ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর মনির মজুমদার, সৈয়দ হাবিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: বাতেন ফারুকী, সদস্য মাও.রাশিদ আহমেদ প্রমুখ।

প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মোঃ আক্তার জামীল তার বক্তব্যে বলেন, বাল্য বিবাহ নারী উন্নয়নের অন্তরায়। সরকার বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সে লক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দারিদ্রতা বাল্য বিবাহের অন্যতম কারন। তাছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা, অশিক্ষা এবং গতানুগতিক মানসিকতা বাল্য বিবাহের জন্য দায়ী। জেলা প্রশাসন এই প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে কাজ করছে। সফলও হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ জেলাতে বর্তমানে বাল্য বিবাহের প্রবণতা কমতে শুরু করেছে। শতভাগ সফল হওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের সহযোগিতা কামনা করেন।

কর্মশালায় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ অতিথিরা বাল্য বিবাহ ও যৌন হয়রানিকে না বলে দাঁড়িয়ে লাল কার্ড প্রর্দশন করেন। বাল্য বিবাহ ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কর্মশালায় প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। শপথ বাক্য পাঠ করানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ে একটি বাল্য বিবাহ ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন এবং অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।