কালেরভিটায় মারুফ-ফারুকের কালো থাবা

গাজীপুর মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কালেরভিটা ও মেঘলাল এলাকার মানুষ প্রতারক মারুফ ও ফারুক মৃধার কাছে জম্মি হয়ে পড়েছে। প্রতারনা ও চাঁদাবাজি করে এ চক্র গত ৭-৮ মাসে নিরীহ এলাকাবাসীর প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পুলিশের অভিযানে গা ঢাকা দিলেও থেমেই নেই তাদের চাঁদাবাজি।

কালেরভিটার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মুদি দোকানী ইছব আলী শিকদার (৪০) অভিযোগ করেন, ৬-৭ মাস আগে জমি বিক্রির কথা বলে মারুফ তার কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টাকা নেওয়ার পর সে গোপনে বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেলে পালিয়েছে। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেন। জিডির কথা জানার পর সে তার নামে এক নারীকে বাদি বানিয়ে যৌতুকের মামলা করেছে। ওই নারীকে তিনিসহ এলাকার কেউ চিনেন না। তার অত্যাচারে এলাকার কয়েকশ মানুষ দিশেহারা। একেক দিন একেক নামের পুলিশ এলাকায় আসে। থানায় গেলে তাদের খুজে পাওয়া যায় না। ঘটনাটি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হককে জানানো হলে তিনি পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। এখন এলাকায় না থাকলেও ভিবিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে লোকজনের কাছে চাঁদা দাবি করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আবদুল জব্বার (৬৫) জানান, ৮ মাস মাস আগে ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার নিজ জমিতে বড় একটি সাইনবোর্ড লাগানো। তাতে ক্রয় সূত্রে দুই বিঘা জমির মালিক দুইজন সেনা কর্মকর্তার নাম লেখা ছিল। তিনি কোন জমি বিক্রি করেননি। মুরুব্বিদের সাথে পরার্মশ করে তিনি ওই সাইনবোর্ড ফেলে দেন। খবর পেয়ে মারুফ (৩৮) ও ফারুক এসে সাইনবোর্ড উঠানোর পরিনাম ভাল হবে না জানিয়ে তাকে এবং ভাতিজা আরিফ দেওয়ানকে (২৫) হুমকি দেয়। তারা তার কাছে বিষয়টি ফয়সালার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিবেনা জানালে তিনদিন পর পুলিশ এসে তাঁকে না পেয়ে ভাতিজা আরিফ দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পরে মাদক মামলা দিয়ে আরিফকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

তিনি আরো জানান, এক মাস পর চোলাই মদ ব্যবসায়ী পরিচয়ে তাঁকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে ডিবি পুলিশের ওসি তাঁকে ছেড়ে দেয়। পরে ডিবি পুলিশ মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানীর অভিযোগে ফারুক মৃধাকে গ্রেপ্তার করে। পালিয়ে যায় মুলহোত মারুফ। তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করতে না পারলেও অনেক নিরিহ মানুষের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মারুফ চক্র।

স্থানীয়রা জানায়, ঢাকার শ্যামপুরের ২ নং সড়কের ৪১/২ নং বাসার বাসিন্দা গোলাম হাবিবুর রহমান চৌধুরী ছেলে মনজিল মাকসুদ চৌধুরী ৫-৬ বছর আগে কালেরভিটায় ৩ কাঠা জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। এক বছর আগে শুরু করেন প্রতারনা। এ কাজে তার প্রধান সহযোগী কালেরভিটার আবদুল গফুরের ছেলে ফারুক মৃধা

নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানান, এলাকায় ঢাকার বাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির আধা বিঘা জমি আছে। এক বছর আগে মারুফ একটি আমমোক্তারনামা দলিল দেখিয়ে জানায়, ওই জমি বিক্রির জন্যে বাসির উদ্দিন তাকে আমমোক্তার নিযুক্ত করেছেন। জমি ক্রয়ের জন্যে দাম ২০ লাখ টাকা ধার্য করে, তিনি মারুফকে ৪ লাখ টাকা বায়না দেন। কথা ছিল ৬ মাস পর বাকি টাকা দিয়ে জমি রেজেষ্ট্রি করে নিবেন। ৬ মাস পর যোগাযোগ করলে নানা কথা বলে ঘুরাতে থাকেন। এক মাস পর জাল আমমোক্তারনামা তৈরীর অভিযোগ তুলে উল্টো তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মামলার হুমকি দেয়। ১০-১১ দিন আগে আশুলিয়া থানা থেকে পুলিশ এসে তাকেসহ এলাকার নাসির, সাহাজউদ্দিন, ফজর আলী, জাহাঙ্গীর, ফারুক, হালিম ও রহিম বাদশার খোঁজ করে। এখন মোবাইলে সে প্রত্যেকের কাছে ৫০ হাজার করে টাকা দাবি করছে।

জয়দেবপুর খানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান জানান, জানান, মারুফ বড় মাপের প্রতারক। তার সহযোগী ফারুককে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পরে জামিনে বের হয়ে সেও আত্মগোপন করে। তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও ১০-১২টি জিডি রয়েছে। ওই দুই প্রতারককে গ্রেপ্তারে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।