মোবাইল ফোনের ‘অযৌক্তিক কলরেট’ বাতিলের দাবি

মোবাইল ফোনের ‘অযৌক্তিক কলরেট’ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে শুধু অপারেটরদের স্বার্থ বিবেচনা করে কলরেট ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার আগে গ্রাহকদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে গ্রাহকদের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর জন্য কমিশন প্রয়োজনে গণশুনানি করতে পারত। তা না করে তাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত গ্রাহককে মানতে বাধ্য করা একটি অগণতান্ত্রিক ও অনৈতিক সিদ্ধান্ত।

মানববন্ধনে সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন বলেন, শুধু অপারেটরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লোকচক্ষুর অন্তরালে এই মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেওয়া যায় না। অতি দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করে জনগণের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ জনগণকে ফেরত প্রদান করার দাবি জানান তিনি।

গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, নতুন এই কলরেটের ফলে গ্রাহকের পকেট থেকে বছরে ছয় হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হবে। তাই মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সরকারকে দ্রুত নতুন কলরেট বাতিল করা আহ্বান জানান তিনি।

মানববন্ধনে আরও অংশ নেন সাবেক সাংসদ অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান কাজী ছাবের আহমেদ ছাব্বীর, দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান, নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম প্রমুখ।

১৩ আগস্ট মধ্যরাত থেকে মোবাইল ফোনের প্রতি মিনিটে সর্বনিম্ন একক কলরেট ৪৫ পয়সা চালু হয়। এর ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে অফনেট ও অননেট সুবিধা থাকছে না। একই অপারেটরের নম্বরে ফোন করা হলে সেটিকে বলা হয় অননেট আর অন্য অপারেটরে ফোন করা হলে তা হয় অফনেট। সর্বোচ্চ কলরেট আগের মতোই ২ টাকা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।