লিয়াকত-আমিনুলের রায় যেকোনো দিন

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. লিয়াকত আলী ও কিশোরগঞ্জের আমিনুল ইসলাম ওরফে রজব আলীর বিরুদ্ধে করা মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে।

উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।

এই দুই আসামির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা দু’জনেই পলাতক রয়েছেন।

২০১৬ সালের ১৮ মে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। তবে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব না হওয়ায় পলাতক দেখিয়েই বিচার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় আদালত। এরপর ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তাদের বিচার শুরু হয়।

তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুসারে, একাত্তরে লিয়াকত ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজের ছাত্র ছিলেন। মুসলিম লীগের সদস্য হিসেবে ফান্দাউক ইউনিয়নে রাজাকারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকে পরে ২০০৩ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের লাখাই থানা কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে মামলার তদন্ত শুরু হলে লিয়াকত পালিয়ে যান।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের অষ্ট্রগ্রাম থানার আলীনগর গ্রামের রজব আলী ১৯৭০ সালে ভৈরব হাজী হাসমত আলী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ইসলামী ছাত্র সংঘের কলেজ শাখার সভাপতি হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভৈরবে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তিনি অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন এবং পরে এলাকায় ফিরে আল বদর বাহিনী গঠন করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।