আহমদ রফিক

পরিবহন খাত নিয়ে এবার পোস্টমর্টেমের পালা

সম্প্রতি সংঘটিত শিক্ষার্থী আন্দোলনটি ছিল চরিত্রগুণে অসাধারণ। বিস্ময়কর এ কারণে যে এ আন্দোলনের নেতাকর্মী সবাই দুই শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিক্রিয়ায় স্বতঃস্ফূর্ত প্রেরণায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। মনে প্রবল প্রতিক্রিয়া : প্রতিকার চাই। শান্তিপূর্ণ এ আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক নেতা বা ছাত্রনেতার নির্দেশে নয় এবং তা একান্ত স্বতঃস্ফূর্ত শোকার্ত আবেগের তাড়নায়।

মাত্র কয়েক দিন এর আয়ুষ্কাল। অথচ এক দিনেই এদের নিয়ে কত রকম প্রতিক্রিয়াই না দেখা গেল—যেমন সরকারে ও ক্ষমতাসীন দলে, তেমনি গোটা রাজনৈতিক মহলে। সেই সঙ্গে গণমাধ্যমে স্পষ্ট কথায়—সংবাদপত্রমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়। দাবি সামান্যই। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ এ বিচারে যে তাতে ইশারা-ইঙ্গিত ছিল পরিবহন খাতের শুদ্ধিকরণের। এবং তা সমাজের জন্য খুব জরুরি।

ওরা স্কুল-কলেজের কচি-কাঁচা ছাত্র-ছাত্রী। তবু কী কঠিন ওদের মনোবল, নির্ভয় ওদের কার্যক্রম। কার্যক্রম বলতে নির্বিষ স্লোগানমুখর শান্তিপূর্ণ রাজপথ অবরোধ মহানগর ঢাকায়, পরে যা ছড়িয়ে যায় মহাসড়কে ও দূর শহরের সড়কে। চিন্তিত ও শঙ্কিত রাষ্ট্রযন্ত্র। হয়তো তাদের মনে পড়তে পারে প্রায় অনুরূপ ইতিহাসধৃত অতীত ঘটনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ভাই-বোনদের উচিত ছিল, ছোটদের সমর্থনে এগিয়ে এসে রাজপথে তাদের সাহস ও শক্তি জোগানো। এ দেশের ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্যমাফিক তাদেরই প্রথম রাজপথে নামার কথা, পেছনে ও সঙ্গে অল্পবয়সী ছাত্র-ছাত্রীরা। এটাই এ দেশের ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষা। তারা বেরিয়েছে অনেক পরে। যখন যথারীতি রাজনীতির হস্তক্ষেপে পানি ঘোলা হতে শুরু করেছে, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে রাজনৈতিক বহুমুখী স্বার্থ আন্দোলনে ছায়া ফেলতে শুরু করেছে।

সবাই বলা শুরু করেছে, অরাজনৈতিক এ আন্দোলন। কদিনের এ আন্দোলনের ইতিহাস তেমন কথাই বলে। যত দূর জানা গেছে, প্রধানত এদের সবাই রাজা—তবু কয়েকজন অগ্রচারীর প্রয়োজন পড়ে। এদের সম্পর্কে, আন্দোলন সম্পর্কে অনেক মাধ্যমে অনেক কথা বলা হয়েছে। আন্দোলন শেষ হয়েও হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ‘ছেলে-মেয়েরা ঘরে ফিরে যাও, স্কুলে যাও। তোমাদের দাবি পূরণ করা হবে।’

ওরা কিছু সময় নিয়ে হয়তো ভেবেছে কী করা যায়? অনভিজ্ঞ, আবেগপ্রবণ মন বলেছে—‘ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী যখন বলছেন দাবি পূরণ করা হবে, দেখাই যাক না কী হয়।’ এর সবটাই আমার অনুমান। আমি তো ঘটনাবহুল অকুস্থলে যেতে পারিনি বয়সের কারণে, শরীরের জীর্ণতার কারণে। তা ছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনে ‘শিং ভেঙে বাছুর’ হতে যাওয়াটাও কতখানি ঠিক, তা-ও বিবেচনার বিষয়।

তবে যা শুনছি, যা পড়ছি, তার ওপর ভিত্তি করে নিজের বিবেচনায়, বিচার-ব্যাখ্যায় লেখা। অবশ্য এ কথাও ঠিক যে দুজন শিক্ষার্থীর  মৃত্যু তথা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলন যে দাবি তুলেছে, তা সর্বজনের স্বার্থভিত্তিক, এককথায় জনবান্ধব চরিত্রের। আমরা কেউ কি চাই, রাজধানীর রাজপথে বা মহাসড়কে বেপরোয়া বাস-ট্রাক চালনায় দিনের পর দিন মানুষের প্রাণ যাক? ছাত্র-অছাত্র জনসাধারণের মৃত্যু ঘটুক?

না, চাই না। চাই না বলেই শিক্ষার্থীদের তুলে ধরা দাবিগুলো আমাদেরও মনের কথা, ইচ্ছার কথা। ওদের সঙ্গে আমাদের প্রভেদ হলো, ওরা একটি শোকাবহ ঘটনা উপলক্ষে রাজপথে-সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে, আন্দোলন তৈরি করেছে, দাবি জানিয়েছে, শাসকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সমাজের জন্য এখানেই তাদের অসামান্য দান।

যে কাজ কথিত নাগরিক সমাজ বা সুধীসমাজের করা উচিত ছিল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর করা উচিত ছিল, কচি-কাঁচারা তা করেছে, বয়স্করা তা করেনি বা করতে পারেনি। কারণ তাদের তো অনেক হিসাব-নিকাশ। সেখানে অনেক স্বার্থের হাতছানি। তাই তারা জনবান্ধব এ কাজটি শুরু করতে পারেনি। দীর্ঘদিন মৃত্যুর মিছিল দেখেও, যদিও কিছু ব্যতিক্রম আছে।

এ ঘটনা আমাকে পুরনো ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন সাধারণ ছাত্ররা স্বতঃস্ফূর্ত আবেগে-উদ্যোগে রাজপথে নেমেছিল জনস্বার্থের প্রয়োজন মেটাতে, শুরুতে রাজনৈতিক নেতারা এতে তৎপর হননি, অনেকে বিরোধিতাই করেছেন। পরে ছাত্রপর্বটি শেষ হলে তারা আন্দোলনের রশি নতুন করে হাতে নিয়েছেন, নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থ।

এখানে অবশ্য বহির্দৃশ্যের রূপটি ভিন্ন, যদিও অন্তর্নিহিত চরিত্রে মিল রয়েছে। মিল স্বেচ্ছাপ্রণোদনায়, স্বতঃস্ফূর্ততায়, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মানবিক চেতনার নিঃস্বার্থ প্রকাশে, অভাবিত ঐক্যের—সর্বোপরি যেখানে সহিংসতার প্রকাশ নেই। এ মিলগুলো কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অবশ্য অমিলও কম নয়, স্থান-কাল-বিষয় তথা পাত্র-পাত্রীর ভিন্নতার কারণে।

দুই.

বিষয় ভিন্ন বলেই এর সূচনায় দেখা গেছে, ‘জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস, স্টিয়ারিং হাতে বেপরোয়া মানসিকতার এক চালক নির্বিচারে বিমানবন্দর সড়কের ফুটপাতে গাড়ি উঠিয়ে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে পিষে মারে। ঘাতক বাসের ছবিসহ এ উদ্ধৃতিটি একটি দৈনিকে ছাপা। ভাবা যায় কি, ফুটপাতে বাস? রাস্তায় নয়, ফুটপাতে দাঁড়িয়েও নিরাপদ নয় মানুষের জীবন এই ঢাকায়, এই বাংলাদেশে।

তাহলে যাতায়াত করতে গিয়ে মানুষ কোথায় দাঁড়াবে, আকাশে? আমার মনে পড়ছে, বছরখানেক আগের ঘটনা—ঘনিষ্ঠ পরিচিত এক তরুণ সাংবাদিক ফুটপাত ধরে হাঁটছিল। পেছন থেকে একটি বাস তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ভাগ্যিস দলে-পিষে মারেনি, ভাঙা কোমর নিয়ে ওই তরুণ ছয় মাস হাসপাতালে। প্রাণে বেঁচে গেছে তরুণ সংবাদকর্মী; কিন্তু এখনো একটু খুঁড়িয়ে হাঁটে।  এমন ঘটনা, এর চেয়ে গুরুতর ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে বাংলাদেশের রাজধানীসহ সড়ক-মহাসড়কজুড়ে। ঈদে-পরবে ঘরে ফেরার তাগিদে কত মানুষের আদৌ ঘরে ফেরা হয় না প্রিয়জনের সান্নিধ্যে। এর একটি পরিসংখ্যান তৈরি হলে দেখা যেত, কী ঘাতক-নৈরাজ্য বিরাজ করছে এ দেশের পরিবহন খাতে। এমন একটি বছরওয়ারি পরিসংখ্যানের চিত্র মহাসড়কের বাঁকে বাঁকে টানিয়ে রাখা উচিত জনসচেতনতা তৈরি করতে।

আমরা তারেক-মিশুকের মতো বহুজনের কথা জানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র-ছাত্রীর কথা জানি, ইলিয়াস কাঞ্চনের বেদনার কথা জানি, দৈনিক পত্রিকায় পড়ি দিনের পর দিন সড়কে মৃত হতভাগ্যদের কথা। রাজধানী মহানগরীর রাজপথও রক্তলাঞ্ছিত, মৃত্যুর স্মৃতিচিহ্নিত। মনে হয়, এদের কোনো বিচক্ষণ অভিভাবক নেই।

পুঞ্জীভূত বেদনার এ ইতিহাসের পেছনে রয়েছে ঘাতক বাস-ট্রাকচালকের বেপরোয়া মানসিকতা, মালিকদের চরম স্বার্থপরতা ও মুনাফার তাগিদে চালকদের ব্যবহার করা, সড়ক-মহাসড়কের ক্ষতবিক্ষত বিপর্যস্ত চেহারা (নেপথ্যে অবিশ্বাস্য দুর্নীতি), সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের উদাসীনতা। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন, অভিভাবকহীন রাজপথ-মহাসড়ক-জনপথ। এরা সবাই জনস্বার্থবিরোধী, কথাটি কি অন্যায়?

তিন.

এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলেই পূর্বোক্ত কথাগুলো বলা। শিক্ষার্থীরা যে ঘটনা ঘটিয়ে বিদায় নিল, তারই জের ধরে সরকারের দাবি মানার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতেও দেখা যাচ্ছে, পরিবহন খাতের নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না। মালিক এখনো চুক্তিভিত্তিক চালক নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে। ফলে চালক নিজ স্বার্থে অর্থ উপার্জনে বেপরোয়া। সংবাদে প্রকাশ পাচ্ছে পরোয়াহীন চালনার ঘটনা। একই সঙ্গে চলছে লাইসেন্স আহরণের হিড়িক, যোগ্যতা থাকুক বা না থাকুক।

তবে মূল যে বিষয় নিয়ে আলোচনা, সেই পোস্টমর্টেমে দেখা যাচ্ছে অদ্ভুত সহমত, রাজনৈতিক বিশ্বাস-নির্বিশেষে। সেই সঙ্গে এমন সত্যও যে কচি-কাঁচারা বিদায় নিলেও এবার সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসেছে। টিভিতে দেখেছি, দিন কয়েক আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বড়সড় একটি মিছিল শাহবাগে এসে থেমে গেছে পুলিশের জলকামান, টিয়ার শেল ও লাঠিচার্জের মুখে। কাগজে পড়েছি, বসুন্ধরায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের প্রতিবাদ নস্যাৎ করতে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল, গুলি। পরিণাম আমরা জানি।

আমাদের প্রশ্ন : দাবি পূরণ সত্ত্বেও প্রতিবাদী মিছিল কেন? তাদের বক্তব্য—দাবি পূরণের লক্ষণ নেই, একাধিক দফার ক্ষেত্রে পরিবহনমন্ত্রী বহাল তবিয়তে, মৃত্যুর সাজা পাঁচ বছর কারাদণ্ড ইত্যাদি। সর্বোপরি বিচারের উদ্যোগ নেই আন্দোলনে হামলাকারীদের, অথচ আহতদের নামে পরোয়ানা ও গ্রেপ্তার। আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট অধিক সক্রিয় ছাত্ররা পুলিশ হেফাজতে। এমন সব ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজ, বিশেষত জ্যেষ্ঠরা, ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বলয়ের কিছুসংখ্যক মানুষ। এসবেরই প্রকাশ ঘটনার পোস্টমর্টেমে, নানা মতের প্রকাশ সেখানে বিপরীত ধারায়। তবে প্রতিবাদের পাল্লাটা ভারী। এমনকি কোনো সরকারি পক্ষের অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবীরও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ নিরাপত্তা বাহিনীর অযৌক্তিক আচরণে।

এসবেরই কিছু উদ্ধৃতি দিয়ে আলোচনা শেষ। পাঠক বুঝে নিন পোস্টমর্টেমের প্রকাশ থেকে, বাকিটা তার নিজস্ব বিবেচনা—কে ঠিক, কে বেঠিক। একজন অধ্যক্ষের একটি দৈনিকে আলোচনার সারমর্ম হচ্ছে, তাঁর ভাষায় : ‘শিক্ষার্থীদের এবারের আন্দোলন শুরু হয় স্বল্প সময়ের কার্যক্রমে অনভিজ্ঞতা দিয়ে সহপাঠীদের প্রতি মানবিক আবেগপ্রসূত অবস্থান থেকে। তা সত্ত্বেও তারা পরিবহনব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিরাজিত অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও সীমাহীন দুর্নীতি, গাড়িচালকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের অমার্জনীয় অদক্ষতা ও বেপরোয়া মনোভাব, যানবাহন নিবন্ধন ও ফিটনেস তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি-নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশের মধ্যে আইন না মানার মানসিকতা, সর্বোপরি ব্যাপক নাগরিক অসচেতনতার বিষয়গুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে।’

এ পরিপ্রেক্ষিতে একটি কথাই বলতে হয়, তখন শিক্ষার্থীদের বাস্তববোধ, রাজনৈতিক সচেতনতা, অন্যায়ের প্রতিবাদে নির্ভীকতা বয়স্কদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক অধ্যাপক লিখেছেন : ‘দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পটভূমিতে শিক্ষার্থীদের বর্তমান আন্দোলন বিচার করলে দেখা যাবে, এটা সরকারি প্রশাসনের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি।’

আলোচনা সংক্ষেপ করতে অনুরূপ একাধিক মন্তব্য উদ্ধৃত না করেই বলা যায়, সমাজের বিশিষ্টজনদের বেশির ভাগই একই রকম মতামত প্রকাশ করেছেন; কেউ চড়া গলায়, কেউ নরম গলায়; কিন্তু যুক্তি-তথ্য উল্লেখে ঘাটতি না রেখে। অধ্যাপক জাফর ইকবালের দীর্ঘ রচনাটি বহুপঠিত, তাই উদ্ধৃত করিনি। বাংলাদেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলো রাজনৈতিক ভিন্নমত সত্ত্বেও এ ব্যাপারে যেসব লেখা ছেপেছে, সেগুলোর মর্মবস্তু উল্লিখিত ধরনের। অর্থাৎ আন্দোলনে ঘোষিত দাবি আদায়ের পক্ষে।

এর কারণ বাস্তব পরিস্থিতি, যা কাগজগুলোতে প্রকাশিত। এ সম্পর্কে ঘটনার মূল্যায়নে কয়েকটি শিরোনামই যথেষ্ট। যেমন ‘নড়বড়ে বাসগুলোর শহরময় দাপাদাপি’, ‘সড়ক এখনো বিশৃঙ্খল’, ‘সড়কে শৃঙ্খলার জন্য দরকার সৎ ও দক্ষ পুলিশ’ ইত্যাদি। সরকারি আশ্বাস সম্পর্কে একটি দৈনিকে মন্তব্য শিরোনাম : ‘ঘোষণাতেই শেষ সব তোড়জোড়’।

আর ঘটনার নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারি উদ্যোগ সম্পর্কে একটি দৈনিকের প্রতিবেদন-শিরোনাম : ‘হামলাকারী শনাক্তে তৎপরতা নেই/মার খেয়ে উল্টো গ্রেপ্তার হওয়া ২২ শিক্ষার্থী কারাগারে’। অন্য একটিতে শিরোনাম : ‘হেলমেট পরে কারা’/‘পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধরল, কিন্তু হামলাকারীদের ধরল না,… প্রশ্ন সবার’। আরো একটি দৈনিকের শিরোনাম : ‘২২ ছাত্র কারাগারে’/‘ছাত্রদের চোখে জল, স্বজনরা উদ্বেগাকুল’।

এমন এক পরিস্থিতিতে সরকার যদি আন্দোলনের যথার্থতা মেনে দাবি পূরণের সিদ্ধান্তই নিয়ে থাকে সে সমঝোতায়, আমাদেরও প্রশ্ন : বাইশ ছাত্র কেন কারাগারে? এরই মধ্যে উপাচার্যরা আবেদন জানিয়েছেন কারারুদ্ধ ছাত্রদের মুক্তি দিতে। আমাদেরও অবশেষ বক্তব্য : ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধানে অলিখিত শর্ত ছাত্রদের সসম্মান মুক্তি, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার এবং ৯ দফা দাবি পূরণ। এজাতীয় পদক্ষেপে আখেরে সরকারের লাভই হবে। না হলে ভবিষ্যতে অশুভ পরিণাম। কথাটা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীও পরোক্ষে বলেছেন। এবার সরকার ভেবে দেখুক। কারণ মানুষের মনে আশঙ্কা—‘সড়ক পরিবহন আইন কতটা কার্যকর হবে’। এমন প্রশ্ন সংবাদপত্রে। তা ছাড়া এ আইনে নৈরাজ্য দূর হবে কি?

লেখক : কবি, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী। সূত্র: সমকাল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।