হাসপাতাল থেকে আদালতে নওশাবা, জামিন না মঞ্জুর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেফতার অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

নওশাবা আহমেদ আজ সোমবার পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় পুলিশ হেফাজতে ছিলেন। ডিবি পুলিশের হেফাজতে থাকাকালে নওশাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় এর আগে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়। নওশাবা ডায়রিয়া ও রক্তচাপে ভুগছেন বলে তার ভাই জুনায়েদ আহমেদ জানিয়েছেন।

হাসপাতালে ঘণ্টাখানেক চিকিৎসা শেষে নওশাবাকে আদালতে নেওয়া হয়। নওশাবাকে আদালতে নেওয়ার পর তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেন।

ঢাকা মহানগর আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান নূর শুনানি শেষে নওশাবার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নওশাবার জামিন চেয়ে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী এ এইচ ইমরুল কায়সার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ৪ আগস্ট নওশাবাকে উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ওইদিন বিকেলে রাজধানীর জিগাতলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্য যুবকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় ফেসবুক লাইভে হাজির হয়েছিলেন ঢাকা অ্যাটাক ছবির এই অভিনেত্রী।

ফেসবুক লাইভে নওশাবা বলেছিলেন, ‘আমি কাজী নওশাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই। একটু আগে জিগাতলায় আমাদেরই ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা সবাই একসঙ্গে হোন প্লিজ। ওদের প্রোটেকশন দেন, বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে, প্লিজ। আপনারা রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন এবং ওদের প্রোটেকশন দেন।’

‘সরকার প্রোটেকশন দিতে না পারলে আপনারা মা-বাবা, ভাইবোন হয়ে বাচ্চাগুলোকে প্রোটেকশন দেন, এটা আমার রিকোয়েস্ট। এদেশের মানুষ-নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট করছি যে, জিগাতলায় একটি স্কুলে একটি ছাত্রের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুজনকে মেরে ফেলা হয়েছে এবং ওদের অ্যাটাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ ওদের বাঁচান প্লিজ। তারা জিগাতলায় আছে।’

নওশাবার ফেসবুক লাইভটি ওই সময় ভাইরাল হয়ে যায়।

গ্রেফতারের পর নিজের ভুল স্বীকার করে নওশাবা জানিয়েছিলেন, তিনি একজনের ফোন পেয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন। জিগাতলায় এরকম কোনো ঘটনা আসলেই ঘটেছে কি না তা যাচাই-বাছাই না করেই তিনি ফেসবুক লাইভের মাধ্যম তা প্রচার করেছেন।

গ্রেফতারের পরদিন ৫ আগস্ট আদালতে হাজির করে পুলিশ নওশাবার সাতদিনের রিমান্ড চায়। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম নওশাবাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান।

প্রথম দফায় রিমান্ড শেষে গত ১০ আগস্ট আবার দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয় নওশাবাকে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় শুক্রবার (১০ আগস্ট) বিকেলে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। ঢাকা মহানগর হাকিম আমিরুল হায়দার চৌধুরী শুনানি শেষে দ্বিতীয় দফায় দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড চলাকালে ডিবি পুলিশের হেফাজতে ছিলেন নওশাবা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।