তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত

ঢাকা-২ আসনে জনপ্রিয়তার জরিপে এগিয়ে শাহীন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কেরানীগঞ্জ »

পরিশ্রমী এবং তৃণমূলের রাজনীতিতে জনপ্রিয় প্রার্থীকেই আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ। এমন সিদ্ধান্তই নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি গণভবনে তৃণমূল নেতাদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানেও এমন কথা বলেছেন তিনি।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুই শতাধিক সম্ভাব্য তরুণ প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা ভাবছে। এ লক্ষ্যে নিজ নির্বাচনী এলাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে নিজ অবস্থান জানান দিতে নিচ্ছেন নানা কর্মসূচি। সাবেক ও বর্তমান যেসব মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে, যারা বারবার মনোনয়ন নিয়ে এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ, তাদের পরিবর্তে মেধাবী ও উদ্যমী তরুণদের মনোনয়ন দেবে— হাইকমান্ডের এমন ইঙ্গিতে তরুণ প্রার্থীরা আশায় বুক বাঁধছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের অন্যতম এক সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণকে মনোনয়ন দেয়। এবারও স্থানীয় সংগঠনের সুপারিশ, মাঠের অবস্থা বিশ্লেষণ করে অনেক তরুণকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। তার মতে, তরুণরা কর্মোদ্যমী, নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জনগণকেও সময় বেশি দিতে পারেন। আর আসলে আওয়ামী লীগ তারুণ্যের শক্তিতেই বিশ্বাসী বলেও মতপ্রকাশ করেন তিনি।

দলীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে এমন সব আশ্বাসের ভিত্তিতে ঢাকা-২ আসনে আরও তৎপর হয়ে ওঠেন তরুণ নেতা শাহীন আহমেদ; যিনি বর্তমানে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা এরই মধ্যে পরপর দু’বার শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করার ফলে তার সুনজরে রয়েছেন বলেও ধারণা এলাকাবাসীর।

অন্যদিকে, ঢাকা-২ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীদের জরিপেও শাহীন আহমেদ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের চেয়ে জনপ্রিয়তায় অনেক এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রলীগের রাজনীতি করে আসা তরুণ এই উপজেলা চেয়ারম্যান আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে এ আসনটি শেখ হাসিনাকে জয় উপহার দিতে চান।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে শাহীন আহমেদ বলেন, ‘আমি বরাবরই দলের প্রতি অনুগত থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমার নেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে নৌকা প্রতীক দেন, তবে তৃণমূল ও সাধারণ জনগণকে নিয়ে আমি জয়ী হতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার আবাল বৃদ্ধ বণিতা থেকে শুরু করে দিনমজুর, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, আইনজীবীসহ সকল পেশার মানুষের সঙ্গে আমার আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সুখে দুঃখে সব সময় পাশে থাকছি, ভবিষ্যতেও থাকবো।

সরেজমিনে ঘুরে তৃণমূলপর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের এক উদীয়মান সংগঠকের নাম শাহীন আহমেদ। খুব অল্প বয়সেই তিনি হয়ে উঠেছেন যুব সমাজের আস্থার প্রতীক। টানা দু’বার নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। দু’বারই অর্জন করেছেন দেশ সেরা উপজেলা চেয়ারম্যানের কৃতিত্ব। হাল ধরেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের। দলকে করেছেন উজ্জীবিত। তার নেতৃত্বেই এখন সু-সংগঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগ।

দেশসেরা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে অ্যাওয়ার্ড নিয়েছিলেন শাহীন আহমেদ

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে শাহীন আহমেদ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বদলে যেতে থাকে কেরানীগঞ্জের মাঠের রাজনীতি। তৃর্ণমূলের রাজনীতিতে পালে হাওয়া ফিরে পায় আওয়ামী লীগ। যে কারণে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ২০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নাশকতা চলাকালে মাঠে দাঁড়াতে পারেনি জামায়েত সমর্থিত ওই জোটের কোন নেতাকর্মীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের দুর্দিনে হাল ধরা এই তরুণ নেতৃত্বই এখন হয়ে উঠেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কান্ডারি। তৃণমূলের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হলে ঢাকা-২ আসনে শাহীন আহমেদকে মনোনয়ন দেয়া উচিৎ বলে মনে করছেন শাহীন সমর্থকরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।