মার্কিন সিনেটের মুখোমুখি হওয়ার কথা ‘গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা’ করছেন অ্যাসাঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটির দেওয়া সাক্ষাৎকারের অনুরোধটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস-এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে অ্যাসাঞ্জকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কমিটি অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এখবর জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে গোয়েন্দা বিষয়ক মার্কিন সিনেট কমিটির পক্ষ থেকে অ্যাসাঞ্জকে পাঠানো এক চিঠিতে এই সাক্ষাৎকারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই দূতাবাসে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছেন তিনি। তার আশঙ্কা, তিনি যদি দূতাবাস ভবন থেকে বের হন তাহলে উইকিলিকসের কর্মকাণ্ডের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাকে যুক্তরাষ্ট্র পাঠানো হতে পারে।
সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান রিচার্ড বার চিঠিতে লিখেছেন, আপনি নিশ্চই অবগত আছেন যে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টি সর্বদলের পক্ষ থেকে সিনেট সিলেক্ট কমিটি অন ইন্টেলিজেন্স তদন্ত করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে, এই কমিটির সর্বদলীয় সদস্যদের সঙ্গে আপনাকে একটি রুদ্ধদ্বার সাক্ষাৎকার দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে। উভয়পক্ষের সম্মতিতে সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হবে।
উইকিলিকসের আইনজীবী জেনিফার রবিনসন বলেন, মার্কিন সিনেট কমিটি অ্যাসাঞ্জের বক্তব্য শোনার অনুরোধ জানিয়েছে। এই অনুরোধে উভয়ের সম্মতিতে স্থান ও সময় নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে প্রস্তাবটি বিবেচনা করছি। কিন্তু সবার আগে অ্যাসাঞ্জের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
লন্ডনের দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জের সবধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বাতিল করেছে ইকুয়েডর সরকার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্যও কাউকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে, এ মাসের শুরুতে জেনিফার রবিনসন জানান অ্যাসাঞ্জ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কয়েকদিনের মধ্যে একটি চিকিৎসক দল তার দেখাশোনা শুরু করবে। তিনি গত চার মাস ধরে সারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন আছেন। কারও সঙ্গে কথা বলারও সুযোগ পাচ্ছেন না। নির্জন কারাবাসের মতো এই অবস্থা তাকে প্রায় ৬ বছর ধরে সহ্য করতে হচ্ছে।
রবিনসন তখন আরও জানিয়েছিলেন, ইকুয়েডর তাকে সুরক্ষা আর নাও দিতে পারে। ফলে তাকে আটক পাঠানো হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি বলেন, ইকুয়েডর সরকার সুরক্ষা তুলে নিতে পারে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদনে আমরা উদ্বিগ্ন। ব্রিটিশ ও ইকুয়েডরিয়ান সরকার কী আলোচনা করছে সেটা নিয়ে ভাবছি। আমরা সবসময়ই আশঙ্কা করি যে. অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে।
এর আগে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মরেনো জানান, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে অবশ্যই ইকুয়েডরের লন্ডন দূতাবাস ছাড়তে হবে। মরেনো বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না যে অ্যাসাঞ্জ হ্যাকার। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যেন তার জীবনের ঝুঁকি না থাকে। আমরা তার আইনজীবী ও ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। একই দিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র দফতর থেকে জানানো হয়, অ্যাসাঞ্জের মামলা নিয়ে আলোচনা চলছে।
দ্য গার্ডিয়ান 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।