ঘটনাস্থল কামরাঙ্গীর চর

মারও খেলেন মামলাও খেলেন ছাত্রলীগের ৫ নেতা!

একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে সমর্থন করার ‘অপরাধে’ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং ছাত্রলীগের থানা কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা মিইয়ে যায়নি। এর মধ্যেই সেই নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করা হলো চুরির মামলা। রাজধানীর উপকণ্ঠ কামরাঙ্গীর চরের এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) মো. হারুনের সই করা একটি অভিযোগে দাবি করা হয়, তিনি এবং তার ছেলে জুয়েল খলিফাঘাট এলাকায় ভ্যানে করে কাপড়চোপড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। বুধবার (১৮ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারির মধ্যে পড়ে যায় তার ছেলে জুয়েল। বড়গ্রাম চেয়ারম্যান বাড়ির মোড় পাকা রাস্তার ওপর এ ঘটনায় জুয়েলের ওপর উদ্দেশ্যমূলকভাবে আক্রমণ করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
সাইদুর রহমান রতন, এইচ এম মিন্টু, মোরসালিন, মো. ফারুক, শাকিল, মো. সজল এবং অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে মামলায় আসামি করা হয়। মামলায় দাবি করা হয়, জুয়েলের একটি চোখে মারাত্মক জখম করা হয়। তার সঙ্গে থাকা নগদ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ।
অথচ সেই বুধবার রাতেই এই ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছিলো। কামরাঙ্গীর চর থানা ছাত্রলীগের কার্যালয়ে ঢুকে ন্যাক্কারজনকভাবে ভাঙচুরের পাশাপাশি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে অবমাননার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংসদ সদস্য খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের ইশারায় ওই হামলার ঘটনা ঘটেছিলো বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করে আসছেন। এ নিয়ে থানায় একটি অভিযোগ জমা করে রাখলেও সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।
ভূক্তভোগীদের দাবি, সেই হামলার ঘটনাটিকে আড়াল করতে এবং ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তাদেরকে সাজানো মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্ত চলছে। আর, এখানেও খোদ খাদ্যমন্ত্রী নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন বলে তাদের স্পষ্ট অভিযোগ।
এই মামলার এক নম্বার আসামী কামরাঙ্গীর চর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান রতন জানান, ‘ওই সময় আমি এলাকায় ছিলাম। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের সাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ব্যানার ফেস্টুন লাগাচ্ছিলাম। তখন আমার বাড়িতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আর গতকাল রাতে আমার বিরুদ্ধেই মামলা করেছে। এসব হচ্ছে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের ইশারায়। আমাদের দোষ আমরা কেন উপজেলা চেয়ারম্যানকে সমর্থন করি।’
মামলায় শিকার আরেক নেতা কামরাঙ্গীচর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোরসালিন হোসেন জানান, তখন তো আমি আমার বাড়ির সামনে ছিলাম। সাথে পুলিশও ছিল। আমার বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা সেই সময় তো এগুলো নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। তাহলে আমি তখন কাকে মারবো, কার পকেট থেকে টাকা নিবো। এইভাবে আমাদেরকে হয়রাণি করার কি অর্থ দাঁড়ায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে তিনদিন ধরে বাবা থানায় ঘুরছেন। সকাল বিকাল বলে ওসি আমার মামলাটও নিচ্ছে না। মামলা করার অধিকারও কি আমাদের নেই? অথচ কাল রাতে ঠিকই আমাদের বিরুদ্ধে মামলাটা নিয়ে নিয়েছে। এইভাবে তো চলতে পারে না।’
 
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে তৃণমূলপর্যায়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে আসছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ। ঢাকা-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এই আওয়ামী লীগ নেতাকে ঘিরে সাভারের ভাকুর্তা, আমিনবাজার, কামরাঙ্গীর চরসহ সংসদীয় আসনের প্রায় প্রতিটি এলাকায় দারুণ জনমত গড়ে ওঠে। তৃণমূলে নেতাকে কাছে পেয়ে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন।
এ আসনের বর্তমান সাংসদ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সঙ্গে এর জের ধরে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। বিশেষ করে শাহীন আহমেদের সমর্থকদের ওপর শুরু হয় হামলা নির্যাতন। এর অংশ হিসেবেই বুধবার রাতে একে একে পাঁচ নেতার বাড়িতে ও ছাত্রলীগ কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। আর, সেই হামলার ঘটনায় থানায় মামলা গ্রহণ না হলেও শেষপর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা নিলো পুলিশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।