আমি খুব কষ্ট পেলাম! কারণ আপনি আমার খাবারের খোটা দিয়ে দিলেন কোটার কারণে

কোটা বাতিলের কথা আজ পর্যন্ত কেউ বলেনি। সবাই বলেছিলো কোটা সংস্কারের কথা। কারণ কোটা সিস্টেম পুরোটাই ছিল ভারসাম্যহীন। কিন্তু আপনি নিজ থেকে দায়িত্ব নিয়ে ঘোষণা দিলেন কোটা সিস্টেমই বাতিল।

আমরা জানি, পরিস্থিতি ঠান্ডা করার জন্যে এটা আপনার কৌশলী সিদ্ধান্ত ছিলো । তারপরও সবাই আপনার উপর ভরসা করেছিলো। বিশ্বাস করেছিলো।কিন্তু সরকার সাধারণ বিষয়টাকে রাজনৈতিক অবস্থায় নিয়ে গেলো।

কোটা সংস্কারের পুরো আন্দোলনকে জামাত-শিবির, বিএনপির ক্রেডিট দিলো। যদি সরকার এতটাই আঁচ করেছিলো তাহলে ভেবে দেখুন উন্নয়নের মহাসড়কে অবস্থান করেও কত শতাংশ মানুষ কোটা সংস্কার চাচ্ছে। কখনো দেখিনি কাউকে হাতুড়ি পেটা করে আবার টেলিভিশনে সাক্ষাতকার দিচ্ছে।নাহ আমার খারাপ লাগেনি।

কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে গড়ে পরিস্থিতি পুরোটাই ছিল ইনজাস্টিস। এই রকম বিরূপ পরিস্থিতি যাওয়ার মতো কিছুই ছিল না কিন্তু। যদি সরকার একটু আন্তরিক হতো। আচ্ছা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের হাতে কেউ কি লাঞ্ছিত হয়েছে? আহত হয়েছে? বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতি বুঝতে শুরু করেছে।

সাধারণ একটি আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিলেন। তারপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এর পাশে ভিড়তে শুরু করেছে। কিন্তু এই সমস্যায় একটু আন্তরিক হলে এসব কিছুই হতো না। জানি, কোটা সিস্টেম পরিবর্তন করলে সরকারের কি ক্ষতি। বর্তমান বাংলাদেশের বাজেটের অর্ধেকই ব্যয় হচ্ছে সরকারী কর্মচারীদের পিছনে।

 

দিন দিন শুধু সরকারী কর্মচারীদের সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। যেখানে মূল বাজেটে অর্ধেকই ব্যয় হচ্ছে মাত্র ২১ লাখ লোকের জন্যে। যেখানে আমাদের জনসংখ্যা ১৭ কোটি। কারণ প্রশাসন আর সরকারী কর্মচারীদের হাতে রেখেই দলীয় শাসনতন্ত্র ঠিক রাখতে হবে। যদি গণতন্ত্র ঠিক রাখার কাজ করতেন মানুষ ভালোবাসতো।

মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০% বহাল রাখার জন্য আদালতের রায় ছিল না। সরকারী চাকরীতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণের পর্যবেক্ষণ রায় ছিল। সেখানে উল্লেখ ছিল কি? নাতি পুতিদের জন্য ১৫% কোটা রাখতে হবে। জানেন তো! আমাদের তরুণরাও না বড্ড মেধাবী। তারা খোঁজে বের করে ফেলে কখন কোন মামলায় মুক্তিযোদ্ধার নাতি নাতনির জন্য কোটা সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিলো?

রায় ও পর্যবেক্ষণ রায় নিয়ে কথা আছে।পর্যবেক্ষণ রায় সময়ের প্রয়োজনে বদলাতে হয়। তখন আশাকরি কোর্ট অব কনটেম্পড পড়বেন না। যদিও আইনের প্যাচে পড়ে যান, তাহলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা রেখে বাকী সব কোটা বাতিল করে দিন। জানি এটাও সম্ভব নয়। কারণ প্রশাসনকে দলীয়করণে রাখতে হয়।

কোটা সংস্কারের মতো বিষয়টাকে রাজনৈতিক রূপ দিলেন। এখন জনগণই যদি রাজনৈতিক রূপ দেয় এসব কখনোই চায়নি। এসব কখনো চায়নি! বঙ্গবন্ধু কন্যা সবাইকে খুশি রাখতে জানে এটা জানতাম। কিন্তু কিছু বক্তব্যে মানুষ তার বিশ্বাস পরিবর্তন শুরু করছে। এটা কখনো কাম্য ছিল না,এটা কখনো কাম্য ছিল না।

তারপর আপনার বক্তব্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের খাবারের খোটা দিয়ে দিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার এই রকম উক্তি আমাদের মনকে ভীষণ আহত করছে। এই বর্তমান বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে গার্মেন্টস কর্মী,কৃষক ও প্রবাসীর কারণে।এদের ঘাম আর পরিশ্রমে এই বর্তমান বাংলাদেশ। মুক্তিযোদ্ধার নাতি নাতনি নয়। মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান,কিন্তু উনাদের কারণে ২য় ও ৩য় প্রজন্ম বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান হতে পারে না। যেই এক বৈষম্যর কারণে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম সেই একই বৈষম্যের পথে বাংলাদেশ হাঁটুক,এটা কখনো চাই না হে বাংলাদেশের রাষ্ট্র নায়ক।

মিজানুর রহমান, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।