ভাষাবিজ্ঞান কেন পড়বেন?

ভাষাবিজ্ঞান (লিংগুয়িস্টিকস) বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন না হলেও বেশিরভাগ মানুষের কাছে অপরিচিত। অনেকেই নাম শুনে মনে করেন ভাষা শেখানোর পড়ালেখা হবে বোধোহয়। আবার অনেক পড়ালেখা জানা মানুষ ও দেখা যায় না জেনে এই বিষয়টিকে সাধারণ হিসেবে গণ্য করা শুরু করেন। কিন্তু আসলে ভাষাবিজ্ঞান কি? কেন পড়ানো হয়?

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১৯৯২ সালে  ভাষাবিজ্ঞান বিষয়টি পড়ানো শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অধীনে। তারপর ২০১২ সালে বিষয়টি পড়ানো শুরু হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের আাধুনিক ভাষা বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধীনে। এ ছাড়াও বিষয়টি বেশ কয়েকটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। যেমন NSU, JU, AIUB, ESW, UIU, ULAB, BRAC ইত্যাদি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি পড়তে চাইলে ‘খ’ ও ‘ঘ’ বিভাগে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ্প্রার্থীরা মেধাক্রম অনুযায়ী বিষয়টি পেয়ে থাকেন। অবশ্যেই বাংলা ও ইংরেজীর নাম্বারের উপর বেশি জোর দেয়া হয়।

এই বিষয়ে যারা পড়েন তারা মূলত ভাষার সাধারণ যে বিজ্ঞান সেটি পড়ালেখা করেন। কোন বিশেষ ভাষাকে নিয়ে সে পড়ালেখা নয়। মূলত এখানে ধ্বনিতত্ত্ব, রুপতত্ত্ব, অর্থতত্ত্ব, ব্যক্যতত্ত্ব ও ভাষার প্রায়োগিক কোর্স সমাজ ভাষাবিজ্ঞান, কম্পিউটর ভাষা বিজ্ঞান, চিকিৎসা ভাষাবিজ্ঞান, ভাষাবৈকল্য, সংকেত ভাষা, মৌলিক বাংলা ও ইংরেজী বিষয় গুলো পড়ানো হয়। যে কোন এক বর্ষে তৃতীয় ভাষা হিসেবে বিদেশী যে কোন একটি ভাষাও পড়ানো হয়।

ভাষাবিজ্ঞানে পড়ালেখা করে কি হবে এমন ও অনেকে বলে থাকেন। আসলে ভাষা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্যে কাজের সুযোগ বিশাল। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, চিকিৎসা ভাষা বিজ্ঞান, প্রতিবন্ধী সেবাপ্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানেও কাজের সুযোগ রয়েছে।
Macintosh, IBM or Microsoft এসব কোম্পানিতে কম্পিউটারের ভাষাগত কাজ গুলো করার জন্যে ভাষা বিজ্ঞানের ছাত্রদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।  এছাড়াও আইআইটি, বাংলা একাডেমী, তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্র, ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স’, ‘স্পিচ সিন্থেসিস’ প্রভৃতি নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রকাশনা সংস্থাতেও কাজ মিলতে পারে ভাষাবিজ্ঞান পড়ে।

অন্য ভাষা শেখার সুযোগ থাকায় পর্যটন সেক্টরে বিভিন্ন কাজ যেমন দোভাষী এবং মিডিয়া হাউজে অনুবাদক হিসেবেও ক্যারিয়ার গড়া যেতে পারে। এতুটুকু পর্যন্ত এগুলো শুধু ভাষা বিজ্ঞানের সাথে সরাসরি যুক্ত। এছাড়াও ইংরেজী বিভাগের একজন ছাত্র যেসব প্রতিষ্ঠানে আবেদনের সুযোগ পাবে তার সমান সুযোগ রয়েছে ভাষা বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্যেও।

বাংলাদেশে বিখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন হুমায়ুন আজাদ, সুকুমার সেন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যয়, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মুনীর চৌধূরী। এই বিষয়ে ব্যপক গবেষণার সুযোগ রয়েছে। প্রতিনিয়ত মানুষের ব্যবহৃত ভাষা বদলাচ্ছে, কত জাতির কত ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। সবই ভাষা বিজ্ঞানের আলোচ্য।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ে জাপান, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি খুব উচুঁমানের বিষয়। প্রতিবছররই এসব দেশ থেকে এ বিষয়ে পড়ার জন্যে বৃত্তি দেয়া হয়।

 

লেখক : রবি হোসাইন, শিক্ষার্থী ভাষাবিজ্ঞান , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ফেসবুক : https://www.facebook.com/robyulhossain96

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।