মাদকের বিরুদ্ধে আর যেভাবে লড়া যায়

‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগানে গত বেশ কিছুদিন ধরে চলছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযান। র‌্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ইতিমধ্যে শতাধিক ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহতের খবর এসেছে বেসরকারী হিসেবে। মাদক বিরোধী এ অভিযানে কাউন্সিলর একরামুলের মত অনেক ‘নিরাপরাধ’ লোক বলি হচ্ছেন বলে অভিযোগও উঠেছে। সর্বোপরি ক্রসফায়ারের নামে বিচার বহির্ভূত এ ধরনের ‘হত্যাকাণ্ডের’ সমালোচনা আসছে চারদিক থেকে। এখন প্রশ্ন উঠছে, আসলে কি এ অভিযান মাদকের ব্যাধি কমাতে পারবে? তা না হলে ক্রসফায়ার ছাড়া অন্য ‘ভালো’ কী উপায় আছে?

আমার ধারণা, এই মাদক বিরোধী অভিযান মাদকের ব্যাধি কমাতে পারতে না, সাময়িক উপশম করতে পারে সর্বোচ্চ। এভাবে ক্রসফায়ারের ফলে কিছু মাদক ব্যাবসায়ী সাময়িক ব্যাবসা ছাড়বে, কিন্তু আরেকটা দল তৈরি হবে। কিছুদিন পরে আবার যেই-সেই। কারণ, অভিযোগ রয়েছে মাদকের বড় বড় হোতারা রয়ে গেছেন এই অভিযানের বাইরে।

সুতরাং আমাদের ভাবা দরকার চলমান অভিযানের বিকল্প অন্য কী কী ‘ভালো’ উপায় আছে?

বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে কেবলমাত্র একটা সাইবার টিম যদি মোবাইল নম্বর ডাটা এনালাইসিসের কাজ করে তাহলে একটা সিদ্ধান্তে আসা যায় কিন্তু। মুঠোফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে কাজ করে এক মাসের মধ্যে তালিকা করে ফেলা সম্ভব কারা আসলে মাদক সেবন করে, কারা খুচরো বিক্রেতা, কারা বহনকারী, কারা পাইকারি বিক্রেতা, আর কারা গড ফাদার।

পুলিশ কিংবা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারা মাদক ব্যাবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ রাখে সেটারও তালিকা করা খুব কঠিন হবে না।

আর সেবনকারীদের বিষয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। যেমন-

১. যে কোন চাকুরিতে প্রবেশের সময় প্রার্থী মাদকাশক্ত কিনা তার পরীক্ষা নিশ্চিত করা।

২. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সময় ডোপ টেস্ট করা।

৩. রাজনৈতিক দলসমূহের পদ-পদবী প্রদানের  সময় একই পক্রিয়া অবলম্বন করা।

৪. বছরে অন্তত একবার করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসাবে ডোপ টেস্ট করা।

এটি চালু হলে পদ-পদবী, চাকুরি, লেখাপড়ার ভয় প্রভৃতি কারণে মাদকের পথে পা বাড়াতে সাহস পাবে না বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু এই কাজগুলো করতে হলে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। একা সরকার কিংবা কোন বাহিনীর পক্ষে এটা করে ফেলা সম্ভব না। মাদকাশক্তি একটি ব্যাধি। অন্যান্য ব্যাধি মানব শরীরে ছড়ালেও মাদকের ছোবল ছড়ায় সমাজে। তাই সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক : সাইফুল আমিন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।