জুনে জেরুজালেম ও রামাল্লাহ সফরে যাচ্ছেন প্রিন্স উইলিয়াম

আগামী জুনে জেরুজালেম ও রামাল্লাহ সফরে যাবেন ব্রিটিশ রাজপুত্র উইলিয়াম। ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রথম কোনও জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে এসব এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন তিনি। কেনসিংটন প্রাসাদের বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্য ইসরায়েলকে ঘনিষ্ঠ এবং গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে। সম্প্রতি কয়েকটি বড় বড় ইস্যুতে যুক্তরাজ্যকে প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা করতে দেখা গেছে। বেশিরভাগ পশ্চিমা মিত্রের মতোই ব্রিটিশ সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাছাড়া ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় শক্তিধর দেশের স্বাক্ষর করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা নিয়েও মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের বিরোধ রয়েছে। ওই চুক্তি থেকে সরে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশংসা করেছিল ইসরাযেল। তবে যতোই মতানৈক্য থাকুক না কেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে ইসরায়েলের প্রতি লন্ডনের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

শুক্রবার (২৫ মে) ব্রিটিশ সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী উইলিয়ামের কার্যালয় কেনসিংটন প্রাসাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২৪ জুন জর্ডান সফরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করবেন উইলিয়াম। এর কয়েকদিন পর তেল আবিব যাবেন তিনি। পরবর্তী তিনদিন জেরুজালেম, তেল আবিব এবং পশ্চিম তীরের রামাল্লায় কাটাবেন ব্রিটিশ রাজপুত্র। তবে উইলিয়াম কোথায় যাবেন এবং কার সঙ্গে দেখা করবেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানায়নি কেনসিংটন প্রাসাদ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে উইলিয়ামের এ সফর। এ ব্যাপারে মার্চেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেসময় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উইলিয়ামের সফরকে স্বাগত জানান।

এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক সফর, এ ধরনের সফর এ প্রথম। এখানে তাকে (উইলিয়াম) বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হবে।

মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় থেকে তখন বলা হয়, এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সফর। ‘আমরা আশা করি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বকে জোরালো তা ভূমিকা রাখবে।’

ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের চাচাতো ভাই ডিউক অব কেন্ট এবং ডিউক অব গ্লোচেস্টার ১৯৯৮ এবং ২০০৭ সালে ইসরায়েলে অনানুষ্ঠানিক সফরে গিয়েছিলেন। আর উইলয়ামের বাবা প্রিন্স চার্লস ২০১৬ সালে সাবেক ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজের শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন।

রয়টার্স 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।