এগিয়ে যাচ্ছে কেরানীগঞ্জ

গ্রাহকদের সন্তুষ্টি নিয়েই সেবা দিয়ে যাচ্ছে পাসপোর্ট অফিস

ঢাকার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যাত্রাবাড়ি শাখাটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা পার করেও গ্রাহকদের সন্তুষ্টি নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এ অফিসের সেবার মান বেশ সন্তোষ জনক বলে জানিয়েছে পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা।

তবে নতুন পরিবেশে ও ফাঁকা জায়গায় পাসপোর্ট অফিসটি স্থাপিত হওয়ার কারণে কিছু প্রতিবন্ধকতাও আছে। তারপরও এই অফিসে আসা পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের তেমন কোনও অভিযোগ নেই। অনেকেই নতুন অফিসের পরিবেশ, যাতায়াত ব্যবস্থা ও অফিসের সেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।সরেজমিন গিয়ে এমন তথ্যই পাওয়া যায়।

তাছাড়া গত ছয় মাসে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের আবেদন করা তালিকা ও পাসপোর্ট বিতরণের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয় বলে জানিয়েছেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা।

জুড়াইন এলাকা থেকে আসা মো. সাজেদুল করিম এবং আরসিনগেট এলাকা থেকে আসা ইকবাল হোসেন জানান, অফিসে জনবল আরও বৃদ্ধি করলে, সেবার মান আরও ভালো হবে। পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যাত্রাবাড়ি শাখাটি কেরাণীগঞ্জে স্থানান্তরের পর গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। এর আগে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের চাপ কমানোর জন্য ২০১০ সালে রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে একটি ভাড়া বাসায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস যাত্রাবাড়ি চালু করা হয়। যা গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ছিল। যাত্রাবাড়ির যে স্থানে পাসপোর্ট অফিসটি ছিল। ঘিঞ্জি পরিবেশের কারণে সেখানে যানজট লেগেই থাকতো। তাই পাসপোর্ট প্রত্যাশী ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যাতায়াতে খুব অসুবিধা হতো। এছাড়াও একটু বৃষ্টি হলেই অফিসের সামনে হাঁটু পানি জমে যেত। এ কারণে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা,কর্মচারীসহ পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে । এসব সমস্যা এড়াতে ও পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ঢাকা-মাওয়া সংযোগ সড়কের পাশে নিজস্ব জায়গায় একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ করে পাসপোর্ট অফিসটি স্থানান্তরিত করে।

বর্তমানে একটু ফাঁকা জায়গায় অফিসটি স্থাপিত হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভালো। অফিসটির তৃতীয় তলায় পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের আবেদন পত্র জমা নেওয়ার পর তাদের ছবি তোলাসহ যাবতীয় কাজ করা হয় এবং চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় প্রশাসনিক কাজ করা হয়। নতুন অফিসের জনবল ২৫ জন। তাদের মধ্যে পাসপোর্ট অধিদফতরের ১৪ জন, আউট সোর্সিংয়ের ৬ জন এবং নিরপত্তাকর্মী ও আনসার বাহিনীর সদস্য ৪ জন। এছাড়া একটু ফাঁকা জায়গায় অফিস স্থাপিত হওয়ায় সার্বক্ষণিকভাবে ৬ জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে রয়েছেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, দোহার, কদমতলী, যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, খিলগাঁও, সবুজবাগ, শাজাহানপুর, ওয়ারি, কোতোয়ালী ও সুত্রাপুরসহ ১৩টি থানার বাসিন্দারা এই অফিসে পাসপোর্ট করাতে পারবেন।

জানতে চাওয়া হলে নতুন এই পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. মাকসুদুর রহমান বলেন,‘আমরা নিজস্ব ভবনে এসে যত দ্রুত সম্ভব সেবা দিয়ে যাচ্ছি। লোকজন যাতে দ্রুত ফর্ম হাতে পায় ও পূরণ করতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সার্ভারের ত্রুটিজনিত কারণে রি-ইস্যু করা পাসপোর্টের কাজ করতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। অফিসটি ফাঁকা জায়গায় অবস্থিত হওয়ায় আশপাশে কোনও ব্যাংক ও ফটোকপির দোকান নেই। যে কারণে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। এছাড়া রাস্তায় চার লেনেরে কাজ চলমান থাকায় প্রায়:শই বিদ্যুৎ সমস্যায় থাকতে হচ্ছে তাদের। যে কারনে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজের অনেক ব্যাঘাত ঘটছে। সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের সেবা আরও দ্রুতগতিতে করা যেত। তারপরও প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে আড়াইশ লোকের সেবা দিয়ে আসছেন তারা।

এসব সমস্যা খুব শিঘ্রই শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসকল প্রতিকুলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে সেবার মান আরো বাড়বে তখন সেবাপ্রত্যাশীদের আর কোন সমস্যায় পরতে হবেনা। তিনি আরো বলেন, আমরা মনে করি রাস্তার উন্নয়নের কাজ শেষ হতে না হতেই আমরা এসকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।