মাহাথিরকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি: আনোয়ার ইব্রাহিম

মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোটের নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, ‘মাহাথিরকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। বহু আগেই আমরা পারস্পরিক বিদ্বেষের কবর রচনা করেছি।’ বুধবার কারামুক্তির পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এর আগে জেল থেকে বেরিয়ে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে আনোয়ার বলেন, নিজের জোট এবং প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মূলনীতিগুলো সমুন্নত রাখায় জনগণকে ধন্যবাদ জানান মালয়েশিয়ার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এই ঝানু রাজনীতিক জানান, শিগগিরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারে যুক্ত হচ্ছেন না। তবে এ সরকারের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

কারামুক্তির পর রাজকীয় ইস্তানা নেগারা প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে দেখা করেন আনোয়ার। যাওয়ার পথে সমর্থকরা ‘আনোয়ার দীর্ঘজীবী হোক’ বলে স্লোগান দেন। ৫৯ বছরের আহমাদ সামছুদ্দিন বিবিসি’কে বলেন, আমার মতো মালয়েশিয়ানদের জন্য তিনি স্বাধীনতার প্রতীক।’

তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত বহু বছরের অন্যায়ের পর মালয়েশিয়া পরিবর্তনের জোয়ার এসেছে।

বিরোধী জোটের নেতৃত্ব নেওয়ার সময় মাহাথির চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন, জোট ক্ষমতায় এলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। তবে দুই বছরের মধ্যে আনোয়ার ইব্রাহিমের মুক্তি নিশ্চিত করে তার কাছে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন তিনি।

গত ৯ মে বুধবারের নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা বারিসন ন্যাসিওনাল সরকারকে হারিয়ে জয়লাভ করে চার দলের নতুন জোট। হাসপাতালের বেডে শুয়ে পাঠানো এক বিবৃতিতে আনোয়ার ইব্রাহিম তার পিপলস জাস্টিস পার্টি-পিকেআর সদস্যদের মাহাথিরের সরকারকে ‘শক্তিশালী ও স্থিতিশীল’ রাখার নির্দেশ দেন।

মাহাথির ক্ষমতাসীন জোটের নেতা আর আনোয়ার জোটের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জেতা দল পিকেআর’র নেতা। এই দুইজন প্রথমে বন্ধু, তারপর শত্রু ও পরে জোটের মিত্রে পরিণত হয়েছেন। তাদের এমন পরিবর্তনশীল সম্পর্ক গত তিন দশক ধরে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব রেখেছে। বিদ্যমান জোটের ভবিষ্যৎও তাদের দুইজনের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে।

মতপার্থক্যের জেরে ১৯৯৮ সালে নিজ সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে আনোয়ার ইব্রাহিমকে সরিয়ে দেন মাহাথির। এরপর কথিত সমকামিতার অভিযোগে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের ধারাবাহিকতায় সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে হটাতে তারা আবার মিত্রে পরিণত হন।

মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর মালয়েশিয়া ইনসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহাথির বলেন, ‘আমি আনোয়ারের কষ্ট বুঝতে পারি। আমার প্রশাসনের সময়েই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ফলে আমার সঙ্গে হাত মেলানো তার জন্য সহজ নয়। আর কারাগারে পাঠানোয় শুধু আনোয়ার নয়, তার পরিবারের সদস্যরাও চাপে পড়েছিল। তারা ২০ বছর ধরে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।’ তবে শেষ পর্যন্ত দুই প্রভাবশালী নেতার জোটবদ্ধতার সুবাধে দীর্ঘ ৬১ বছর ধরে ক্ষমতাসীন জোটকে হারিয়ে গণরায় পায় মাহাথির-আনোয়ারের জোট। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।