বিশ্ব একটি বিশাল রঙ্গমঞ্চ, বাংলাদেশ তার হেডকোয়াটার

বাংলাদেশে রাজাকার কিংবা দেশদ্রোহিতার সার্টিফিকেট কে দেয়?? আগে মোটামুটি ছাত্র রাজনীতির সংগঠন দিলেও এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে।
 
গণতান্ত্রিক দেশে কোনো গণতান্ত্রিক দাবি আদায়ের আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাবি কোন আইনের ভিত্তিতে স্টুডেন্টকে হল থেকে বের করে দিতে পারে?
 
কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে অনেক নাটক দেখলাম। এসব নাটক দেখে মনে হলো ,এই বিশ্বটা একটা বিশাল রঙ্গমঞ্চ আর বাংলাদেশ তার হেডকোয়াটার।
 
কোটা সংস্কার আন্দোলন বাংলাদেশে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৩,২০০৮, ২০১৩, ২০১৫ সালে হয়। তখন সেটা অত বেশি বিস্তার হয়নি,
২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন বিস্ফোরণ ঘটে।
 
ঢাবি প্রশাসন হল থেকে মেয়েদের বের করে দিয়েছে,সাইবার ক্রাইমের অজুহাতে। বিষয়টা হাস্যকর হয় না? সাইবার ক্রাইমে আইনে কোন অপরাধটা তারা করেছে সেটা কিন্তু এখনো অবধি ঢাবি প্রশাসন প্রকাশ করে নাই।
 
সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা সবাই মেনে নিয়েছে, এরপর আবার কিভাবে এই আন্দোলনে কর্মীদের উস্কাই দিচ্ছে?
এখানে নিশ্চয়ই  তারাও কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে চেষ্টা করছে না তো? ঢাবি শিক্ষক কিভাবে বলে,আমি ২ হাজার স্টুডেন্ট বহিষ্কার করে দিবো? আবার হুমকির অডিও প্রকাশ করে দেওয়া সাইবার ক্রাইমে পড়ে নাকি?? সরকারের বিরোধী গুজবের জন্য নাকি এই বহিষ্কার করবে? উনি মনে হয় ভুলে গিয়েছিল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কোন অপরাধে বহিষ্কার করা যায়?
 
কোন শিক্ষকের এই অধিকার নাই, স্টুডেন্ট এর মোবাইল চেক করা। তথ্য প্রযুক্তি আইনের কোন ধারায় এটা পড়েছে জানি না,বরং সাবিতা রেজুয়ানই অভিযুক্ত হতে পারে তথ্য প্রযুক্তি আইনে।
 
সবার একটা রাজনীতি পরিচয় থাকতে পারে।যতদিন বাংলাদেশের সংবিধানে গণতান্ত্রিক লেখা আছে ততদিনে দেশের সব রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষ গণতান্ত্রিক দাবী আদায়ে আন্দোলন করতে পারে।
 
বড় বিষয় হলো, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনই একমাত্র আন্দোলন যেখানে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে।
 
কিন্তু রাজনৈতিক ব্যানার দেখিনি। শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যানার দেখেছিলাম।এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সুযোগ নিতে চেষ্টা করবে এটা স্বাভাবিক।বেশ কয়েকটা বিষয় এই আন্দোলনকে ঘিরে লক্ষ্য করেছি।
 
কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ইন্টারনেটের বেশ কয়েকটি আচরণ ছিল মূর্খামি ভরা। পক্ষে বিপক্ষে ফেসবুকে গ্রুপ খুলে স্ক্রিনশটের ট্রলময় রাজনীতি। আজকে ওর নামে স্ক্রিনশট বের হচ্ছে,কাল অমুকের নামে গোপন স্ক্রিনশট বের হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু স্ক্রিনশট তৈরি করা যায় এটা ভুলে যায় সবাই।
 
যেই স্ক্রিনশট গুলো নিয়ে রাজনীতি করছে তারা চাইলেও ভিডিও স্ক্রিনের রাজনীতিটা করতে পারতো। স্ক্রিনশট বিশ্বাস করা মানে অন্ধকে বিশ্বাস করা। পারলে ভিডিওস্ক্রিন প্রকাশ করুন, আমরা বিশ্বাস করবো ।এত এত স্ক্রিনশট প্রকাশ হলো,কিন্তু একটা ভিডিওস্ক্রিন এখনো প্রকাশ হলো না।
কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে খোদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কয়েক নেতা পক্ষ বিপক্ষ অভিযোগ করেছে, আসন্ন সম্মেলন পিছাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ব্যবহার করার। এর ভিতর আসল,তারেক জিয়া ও আর কার জানি ফোন আলাপ ।এই ফোনালাপ কিভাবে ফাঁস হয়েছে কেউ জানে না। যেই ফোন কলের রেকর্ড ফাঁস করবে তার রের্কড পরিষ্কার থাকবে অপরজনের অস্পষ্ট থাকবে।
 
কোটা সংস্কার নিয়ে সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলনকে নিয়ে বড় বড় রাজনীতির চাল গুলো চালা হয়েছে। এখন চালা হয়েছে ঢাবির হল থেকে বের করে দেওয়া। হল থেকে বের করে দিয়ে আবার কেনো উস্কানি দেওয়া হচ্ছে।উপাচার্য এর কথা শুনে মনে হল,গ্রামের মোড়ল কথা বলছে।
 
মৃত্যুর গুজব, রগকাটার গুজব, লাঞ্ছনা, শিবির বানানো, ছাত্রলীগের কিছু কর্মীকে হাইব্রিড কাউয়া বানানো! মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো সহ সবকিছু হয়েছিলো। যে যেভাবে পারছে সুযোগ নিতে চেয়েছিলো।
 
কোটা সংস্কার আন্দোল নিয়ে বিস্ফোরণ না ঘটে মতো প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের গেজেটটা প্রকাশ করে দিলেই দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ হয়।
 
ফেসবুকে যেভাবে এই আন্দোলন নিয়ে আচরণ করা হচ্ছে সেটার বিস্ফোরণ ভালো কিছু বয়ে আনবে না।
কারণ স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন গুলোর প্রভাব খুব একটা ভালো হয় না।

মিজানুর রহমান নোবেল, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।