ট্রাম্প ‘নৈতিকভাবে’ প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য: কোমি

মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান জেমস কোমি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসাবে নৈতিকভাবে যোগ্য নন ডোনাল্ড ট্রাম্প, কারণ তিনি নারীদের মাংসের টুকরো হিসাবে মনে করেন।

গত বছর বরখাস্ত হওয়ার পর এই প্রথম টেলিভিশনে কোন বড় সাক্ষাৎকার দিলেন মি. কোমি।

এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ”মি. ট্রাম্প অব্যাহত ভাবে মিথ্যা বলে চলেছেন এবং হয়তো বিচারের কাজেও বাধা তৈরি করছেন।”

জেমস কোমি বলছেন, ” তিনি শারীরিকভাবে অযোগ্য বলে আমি মনে করিনা। আমি মনে করি, নৈতিকভাবে তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন।”

”আমাদের প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই সম্মান অর্জন করতে হবে এবং যে ভিত্তিগুলোর ওপর দেশ গঠিত হয়েছে, তার প্রতি মূল্যবোধ থাকতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সত্যি বলতে হবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট সেটা করতে পারছেন না।” বলছেন মি. কোমি।

সাক্ষাৎকার প্রচারের কয়েক ঘণ্টা পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পার্টির রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি একটি বিবৃতি দিয়েছে যেখানে বলা হয়েছে, নিজের নতুন বইয়ের প্রচারণা বাড়াতে মি. কোমির এই সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তার সত্যিকারের আনুগত্য আসলে তার নিজের প্রতি।

জেমস কোমির আত্মজীবনীমূলক নতুন বইয়ের নাম এ হাইয়ার লয়্যালটি: ট্রুথ, লাই’জ এন্ড লিডারশীপ. যেখানে তার দায়িত্ব পালনের সময়কার নানা ঘটনার বর্ণনা রয়েছে।

সাক্ষাৎকারটি প্রচারের কয়েক ঘণ্টা আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণাত্মক হয়ে বলেন, ”এগুলো কোমির অনেক মিথ্যার অংশ”।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে এফবিআই পরিচালক থাকার সময় কংগ্রেসে একটি চিঠি পাঠান জেমন কোমি, যেখানে বলা হয় যে, হিলারি ক্লিনটনের ইমেইলের বিষয়ে পুনরায় তদন্ত শুরু করছে এফবিআই।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ নিয়ে ২০১৭ সালের মার্চে তদন্ত শুরু করে এফবিআই। ওই ঘটনার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে জড়িত নয় বলে বিবৃতি দেয়ার জন্য মি. ট্রাম্প জেমস কোমির ওপর চাপ তৈরি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সে বছর মে মাসে তাকে বরখাস্ত করেন মি. ট্রাম্প।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।