কোটার সংস্কার যে কারণে জরুরী

বাংলাদেশের মানুষ দুইটি জিনিসকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে। এক ধর্ম দুই রাজনীতি। ধর্মান্ধ ও রাজনীতি অন্ধত্ব দুইটোই দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকারক। আমাদের রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস খুব একটা বেশিদিনের নয়।

বাংলাদেশ উপনিবেশিক শাসন আমলের আগেও আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব ছিল না। মাত্র ৫০ বছর হয়নি আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাস,এর মাঝেই রাষ্ট্রের অধিকাংশ নীতিই দুর্বল। যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে রাষ্ট্রের পরিচালনা কখনোই হয়নি। এইদেশের মন্ত্রীদের কথাবার্তারও কোন লাগাম নেই। কাল কি বলেছেন,সেটা আজ তার মনে থাকে না। সংসদ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তৈরি হয়েছে,সেই সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের জনগণকে গালিগালাজ করা হয়। বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ দের অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তার ইতিহাস একদিনের নয়। রাজনীতি অন্ধত্ব নাই বলে মানতে পারছি না।

বাংলাদেশের সরকারী চাকরীতে এখন ২৫৮ ধরনের কোটা আছে। তার মাঝে ১ম শ্রেণীর চাকরীতে আছে ৫৬% কোটা আছে ৫টি ক্যাটাগরিতে। বাংলাদেশের সরকারী চাকরীর কিছু সেক্টর আছে যেখানে ১০০% কোটায় বরাদ্দ। যেখানে সাধারণ কেউ আবেদন করার সুযোগই পায় না। এত এত কোটার সুবিধা কেনো বা কি জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে? তৃতীয় প্রজন্ম পর্যন্ত যদি কোটার সুবিধা পায়,তাহলে এই দেশে জন্মই তার ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে। তার প্রতিযোগিতা বা পড়ালেখার তেমন কোন দরকার পড়ে না,শুধু একটা সার্টিফিকেটই দরকার পড়ে। এই রকম একটা অসুস্থ ব্যবস্থায় দেশের সরকারী চাকরীর পদ গুলো পূর্ণ হলে দেশ কি এগিয়ে যেতে পারে? মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধার অবমাননা নয়,কথা হচ্ছে অযৌক্তিক সুবিধা কি করানে?

দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে অবদানের জন্য। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পৃথিবীর প্রায় দেশে আছে,কিন্তু তৃতীয় প্রজন্ম পর্যন্ত সুবিধা দেওয়ার রাজনৈতিক সৃষ্ট কোটা প্রথার ইতিহাস পৃথিবীতে বিরল। কোটা রাজনৈতিক সৃষ্টি,রাজনৈতিক কারণে সৃষ্টি করা হয়েছিলো। সেখানেও একটা স্বার্থ কিংবা উদ্দেশ্য ছিল।

এই স্বার্থের জন্য দেশের জনগোষ্ঠীকে অবমাননা করা হচ্ছে। সরকার এর উচিত সেই স্বার্থকে সংকোচিত করা দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষের জন্য। তা না হলে রাষ্ট্রের মাঝে মানুষে মানুষে বিভাজন তৈরি হবে। রাজনীতির অন্ধত্বের কারণে কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্র রাজনীতির সংগঠন বিরুদ্ধচার করছে। নীতি নির্ধারণী প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত জনগণ এর জন্য হয় না। রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য হয়। প্রজাতন্ত্রের নাগরিক যদি সমান সুযোগ ভোগ না করে সেটা রাষ্ট্রের প্রজাতন্ত্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। কোটার সংস্কার হোক ।

মিজানুর রহমান নোবেল, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।