আহমদ রফিক

শক্ত হাতে পাকিস্তানকে মোকাবেলা করতে হবে

বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে গোটা তিনেক মাস স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে আছে। যেমন—ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন তথা একুশের মাস, ভাষার মাস; মার্চ স্বাধীনতার মাস এবং ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এগুলোর রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অপরিসীম। তিনটি মাসই শুরু থেকে ভাষিক জাতীয়তা ও স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে একসূত্রে গাঁথা।

পেরিয়ে এলাম ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি বিপুল আবেগের আনুষ্ঠানিকতায়। একুশের সর্বাধিক আনুষ্ঠানিকতার প্রকাশ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আলোচনাসভা, সংগীত ও নাটক পরিবেশন এবং বহুখ্যাত বইমেলায় লাখো মানুষের সমাবেশে। মাসশেষে ক্লান্তদেহে নিঃসাড় ঘুম।

এখন চলছে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম ছায়ামাখা পরিবেশে স্বাধীনতার মাস মার্চে স্বাধীনতাযুদ্ধবিষয়ক অনুষ্ঠানাদি। লেখায়, বক্তৃতায়, সেমিনারে, মঞ্চনাটক থেকে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বাধীনতাযুদ্ধের আবেগ পরস্ফুিট, অনেকটা জোয়ারি উচ্ছ্বাস নিয়ে। শহীদ মিনার চত্বর সর্বদা জনসমাগমে সরগরম। রাজধানী মহানগরী ঢাকা এই আবেগ-উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে বড় বড় শহরেও এর স্পর্শ। যেমন—চট্টগ্রামে চলছে স্বাধীনতার মাস উপলক্ষে বইমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনাসভা।

১৯৭২ সাল থেকে সূচিত স্বাধীনতার জোয়ারি আবেগ ক্রমেই কমে এসে এখন মূলত গতানুগতিক সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত। একুশের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একদা জাতীয় জীবনে যে সুস্থ প্রতিবাদী ভূমিকা রাখতে, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত ও কার্যকর রাখতে আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল, স্বাধীনতা-উত্তরকালে সে তার শুদ্ধ চেতনা ও মহত্ত্ব পুরোপুরি ধরে রাখতে পারেনি।

ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জীবন স্বাধীনতার মর্মবস্তু বাস্তবায়নে গতানুগতিক আচরণে পর্যবসিত। সমাজজীবনের সর্বব্যাপী দুর্নীতির কথা আজ এই স্বাধীনতার মাসে না-ই বলি। কিন্তু এ মাসে বলতেই হয় স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষিত পরিণামের কথা। এসব কথা শুধু আমি কেন, অনেকেই এ মাসে তাঁদের ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেন নানা ধরনের লেখায়।

এসব লেখার চরিত্র কমবেশি একই রকম। তাতে ক্ষোভ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের হতাশা প্রকাশই প্রধান। বছরখানেক আগের একটি লেখার সামান্য উদ্ধৃতি বিষয়টি বুঝতে আমাদের সাহায্য করবে। সেখানে লেখা হয়েছিল: ‘অনুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠানে তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও আত্মদানের কাহিনি শুনে আমরা অভিভূত হই, বীরাঙ্গনাদের লাঞ্ছনায় মর্মাহত হই। কিন্তু সত্য হলো, এসব আমাদের চেতনায় সাময়িক দাগ কেটে মাসান্তে মিলিয়ে যায়।

‘জাতীয় চেতনায় এমন কোনো দৃঢ় প্রত্যয় জন্ম নেয় না, যে প্রত্যয় জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় আমাদের প্রতিবাদী করে তুলতে পারে। জাতিরাষ্ট্রের যথার্থ ভাবমূর্তি তৈরিতে আমাদের দায়বদ্ধতার প্রকাশ ঘটতে পারে। এসব দিকে আমাদের চৈতন্যে ঘাটতি অনেক। তাই ঘাতক রাজাকারদের অপরাধের বিচারে আমরা বাংলাদেশি মানুষ রাজনৈতিক মত ও দল-নির্বিশেষে একাট্টা হতে পারিনি। শুধু না পারার অক্ষমতাই নয়, তাদের বিচারের বিরুদ্ধে বা শাস্তির বিরুদ্ধে রাজনীতির একাংশকে সোচ্চার হতে দেখা গেছে।’

এমন ঘটনার কথা ভাবা যায় একুশের চেতনা বা স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে। আরো আশ্চর্য যে স্বাধীনতা-উত্তরকালে দ্রুত বাঙালি চেতনার বিভাজন ঘটে যায়—বাঙালি বনাম বাংলাদেশি হিসেবে। একাত্তরে পাকিস্তানি বর্বরতার প্রকাশ যে গণহত্যায়, তার মর্যাদা আর যথাস্থানে থাকে না। আরো বিস্ময়কর ঘটনা হলো, একাত্তরের রণাঙ্গনে যুদ্ধ পরিচালনায় রত সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যেই দেখা যায় আদর্শিক বিভাজন। তাঁদের কারো কারো পক্ষে পরবর্তী সময়ে পরোক্ষে পাকিস্তানপন্থী হতেও বিবেকে বাধেনি।

তাঁরা ভুলে গেছেন একাত্তরে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর গণহত্যার ভয়াবহতার ঘটনাবলি। বাঙালি নারী ধর্ষণ ও হত্যার বীভৎস অমানবিকতা। অথচ জাতীয় পর্যায়ে গণহত্যার অপরাধ বিশ্বের কোনো জাতিরাষ্ট্রই মেনে নেয় না। প্রমাণ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষে ন্যুরেমবার্গ বিচার। প্রমাণ ইসরায়েলি শাসকদের নািস যুদ্ধাপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচার ও শাস্তি প্রদানে অবিশ্বাস্য লাগাতার প্রচেষ্টা। নািস যুদ্ধাপরাধী আইখম্যানের বিচার তাদের দৃঢ় জাতীয় প্রত্যয়ের পরিচয় দেয়।

আমরা বাঙালি পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করতেই শুধু যে পারিনি তা-ই নয়, ঘাতক রাজাকার মাইনুদ্দিনদের বিদেশ থেকে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারিনি। দেশে অবস্থানকারী জামায়াতি রুই-কাতলাদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করেছি, এখনো অনেক বিচার বাকি। দুর্বোধ্য কারণে সে বিচারপ্রক্রিয়া এখন ততটা সচল নেই। জনগণের তরফ থেকে, প্রগতিবাদী বা জাতীয়তাবাদী রাজনীতির তরফ থেকে বিচারের জন্য কোনো ধরনের চাপ নেই। নেই তেমন কোনো জোরালো প্রতিবাদী দাবি।

অথচ এ ব্যাপারে পাকিস্তান যুক্তিহীনভাবে, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে। এমনকি স্থানীয় যুদ্ধাপরাধী অর্থাৎ রাজাকারদের বিচার ও শাস্তির প্রতিবাদ জানাচ্ছে। জানাচ্ছে সরকারিভাবে সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ করে। একাত্তরের গণহত্যা পাকিস্তানের পরবর্তীকালীন শাসক শ্রেণিও মেনে নেয়নি। ভুট্টো সিমলা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে, ওয়াদার বরখেলাপ করে গণহত্যার অপরাধী সামরিক কর্মকর্তাদের বিচার করেনি। বাংলাদেশ এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আন্তর্জাতিক দরবারে জোরালো কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেয়নি।

দুই

২৫শে মার্চ ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ। রাত ৯টার পর এক মিনিট আলো নিভিয়ে ভয়াল রাতটির আনুষ্ঠানিক স্মরণ। সংবাদপত্রগুলোতে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দিনটির ঘটনাভিত্তিক বিচার-বিশ্লেষণমূলক লেখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। এ আনুষ্ঠানিকতা প্রয়োজন আছে সন্দেহ নেই। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। যেমন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিতে তেমনি শাসনযন্ত্রের চেতনায় এ বীভৎস গণহত্যার প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে তাৎপর্যময় হয়ে ওঠেনি।

স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করেই আমরা খুশি, আবেগে আপ্লুত। কয়েক লাখ বাঙালি নর-নারী হত্যার ঋণ শোধের দায় আমরা রাজনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে বহন করছি না। অভাবিত প্রাপ্তি আমাদের অন্ধ করে দিয়েছে। গণহত্যার দায় পূরণে করণীয় সম্পর্কে উটপাখির মতো সমস্যার মুখে বালুতে মুখ গুঁজে কর্তব্য শেষ করছি। অভাবিত শ্রেণি-সমৃদ্ধি তাদের পেছন ফিরে তাকাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলাই বোধ হয় সঠিক।

সত্যি বলতে কি, একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে আমাদের মধ্যে একধরনের উদাসীনতা বা স্বাধীনতা অর্জনের আত্মতৃপ্তি প্রধান হয়ে উঠেছে। সমাজে এর প্রভাব নেতিবাচক। তাই গণহত্যায় স্বজন হারানোর আর্তি হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। সমাজ এ ব্যাপারে সঠিক মাত্রায় সচেতন তো নয়ই, বরং সমাজের একাংশে নীরব বা সরব পাকিস্তানপ্রীতির উদ্ভব লক্ষ করা যাচ্ছে। একসময় পাকিস্তানি পতাকা ওড়ানোর মতো ঘটনাও আমাদের প্রত্যক্ষ করতে হয়েছিল।

একসময় ‘বাঙালি’ বলতে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জাতিগত গর্ব ও অহংকারের যে প্রকাশ দেখা গেছে, তা এখন যথেষ্ট মাত্রায় সংকুচিত ও বিভাজিত।

বাঙালি একধরনের হীনম্মন্যতায় ভুগছে—এ অভিযোগ সমাজের একাংশের জন্য সত্য, অন্যদিকে অতিমাত্রায় জাতিগর্ব প্রায় জাত্যভিমানের তুল্যও, কিন্তু তা একান্তভাবে বহিরঙ্গের। এর সঙ্গে অন্তরের সত্য ও মননশীল প্রজ্ঞার সম্পর্ক ক্ষীণ।

এর বড় কারণ অতি দ্রুত গড়ে ওঠা অতিমাত্রার ধনিক শ্রেণির ভোগবাদী, অপচয়ভিত্তিক চেতনা এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক শাসক শ্রেণির ‘সব পেয়েছি’র আত্মতৃপ্তি ও স্বার্থপরতা, এককথায় শ্রেণিস্বার্থের অভাবিত পূরণ, অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি। স্বভাবতই আদর্শগত দায় পূরণের মানসিকতা আর বজায় নেই। সে ক্ষেত্রে বিস্মৃতিই প্রধান হয়ে উঠেছে। তাই ২৫শে মার্চের ভয়াল রক্তাক্ত রাতের (কালরাত) স্মৃতি মনে হয় এক মিনিটের অন্ধকার সময় পালনে দায় সমাপন করে চলেছে। রাষ্ট্রনৈতিক-রাজনৈতিক কর্তব্যগুলো ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে।

আমাদের এ মানসিকতার সুযোগ নিচ্ছে পাকিস্তানের শাসক শ্রেণি, তা যে দলেরই হোক। সেখানকার মধ্যবিত্ত ও বিত্তবান শ্রেণি, সাধারণ শিক্ষিত শ্রেণিও গণহত্যার দায় বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে রাজনৈতিক আত্মপ্রসাদ ভোগ করছে। দু-চারজন আসমা জাহাঙ্গীর বা অনুরূপ হাতে গোনা কয়েকজন ব্যতিক্রম। সমাজ তাঁদের পক্ষে নয়। সাংবাদিক হামিদ মীরের পল্টি খাওয়া এবং গণহত্যা নিয়ে ভিন্নমত বিচ্ছিন্ন উদাহরণ নয়। এটা সামাজিক মতামতেরই প্রতিফলন।

পাকিস্তানের শাসকদের বাঙালি ও বাংলাদেশবিরোধী মানসিকতা আজকের নয়। এর সূচনা পাকিস্তানের জন্মলগ্ন (১৯৪৭-আগস্ট) থেকে। তাই নিয়ে বাঙালি-অবাঙালি সংঘাতের পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটতে চাই না। বিষয়টি বহু আলোচিত। মুশকিল হলো একুশ শতকেও পাকিস্তান সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে। বেশ কিছুকাল আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক মন্তব্য তার প্রমাণ।

পাকিস্তানের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বহু অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিহারি সমস্যা একটি ছোট্ট উদাহরণ। বাংলাদেশ সেসব বিষয় নিয়ে বহু লেখালেখির পরও জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়নি। আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো দাবি উত্থাপন করেনি। যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনাদের বিচারের দাবিও জোরালো ভাষায় তুলে ধরেনি।

এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে এবং নিচ্ছে পাকিস্তান। এমনকি বিদেশি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত গণহত্যার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে। ২৫শে মার্চের একটি দৈনিকে তাই একটি সংবাদ শিরোনাম : ‘মীমাংসিত বলে গণহত্যা এড়ানোর চেষ্টায় পাকিস্তান’। অবশ্য গত বছর থেকে বাংলাদেশ ২৫শে মার্চ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। অনেক দেরিতে হলেও করেছে।

কিন্তু ঘোষণার পাশাপাশি দরকার আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা। এ সম্পর্কে অন্য একটি দৈনিকে শিরোনাম : “আজও মেলেনি গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি’/‘কূটনৈতিক তৎপরতা খুবই সামান্য’। হয়তো এ কারণেই জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে আর্মেনীয় গণহত্যা উপলক্ষে ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ তৎপরতার অভাবে পিছিয়ে পড়েছে।”

অবশ্য বিচ্ছিন্নভাবে একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ২৫শে মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা চলেছে। কিন্তু জাতিসংঘ এ ব্যাপারে বেসরকারি খাতকে মূল্য দেয় না, দেয় সরকারি প্রচেষ্টাকে। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টায় ঘাটতি অস্বীকারের উপায় নেই। এ বিষয়ে আরেকটি দৈনিকে শিরোনাম : ‘গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কবে’/‘থমকে গেছে উদ্যোগ’।

আবারও বলতে হয়, স্বাধীনতার মুকুট হাতে পেয়ে খুশিতে-আহ্লাদে আমরা বিভোর ছিলাম। ক্রমে নানা রাজনৈতিক কারণে জাতীয় চেতনায় স্বাদেশিকতার ঘাটতি আমাদের কর্তব্য পালনে অবহেলার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। জাতীয় চেতনায় সরকারি পর্যায়েও দেখা দিচ্ছে উদাসীনতা ও স্ববিরোধিতা। তাই রাজাকারদের বিচারে প্রশংসা অর্জনের পর দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

প্রমাণ একটি দৈনিকের সংবাদ শিরোনাম : ‘২২ যুদ্ধাপরাধীর আপিল শুনানির উদ্যোগ নেই’/‘ট্রাইব্যুনাল গঠনের আট বছর’/‘ফলে থমকে গেছে আপিল শুনানি’। এসব ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত কর্মতৎপরতার সঙ্গে বর্তমান স্থবিরতার হিসাব মেলে না। হয়তো বিচার, রায় ও শাস্তির রাজনৈতিক প্রাপ্তিই শাসনযন্ত্রকে স্থবির করে দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এ চরিত্র বহুল দৃষ্ট।

স্বাধীনতার মাসের মাসতামামি হিসেবে ২৫শে মার্চ ও আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনার চরিত্র বিচারের বিবেচনায় এই বিষয় নির্বাচন। অনেক ঘাটতি, অনেক ক্ষতি সত্ত্বেও বাংলাদেশকে গণহত্যার বিরুদ্ধে আইনি ও তাত্ত্বিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে দৃঢ়প্রত্যয়ী ও তৎপর হতে হবে। বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রীয় মান-মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাই এ ক্ষেত্রে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী।

নোট: কালের কন্ঠ থেকে নেয়া।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।