‘খালেদা জিয়ার জামিন দিতে আদালত দেরি করেনি, বরং সরকার করেছে’

খালেদা জিয়ার জামিন দিতে  আদালত দেরি করেনি, বরং সরকার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদাতের রায়ের পর উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন হয়ে গেলো। অথচ খামাখা ১৫দিন বিলম্ব করা হলো। বললো, নথিপত্র আসলে রায় দেওয়া হবে। আমরা আইনে বিশ্বাস করি বলেই মেনে নিয়েছি। তারপর নথিপত্র এলো। বলা হয়েছে, ১৫দিনের মধ্যে নথিপত্র আসবে। একদিনের মধ্যেও আসতে পারতো। কিন্তু একেবারেই শেষ দিকে আনা হয়েছে। এইযে ১৫দিন বিলম্ব করলো, সেটা তো আদালত করেননি। সরকার করেছে। সরকারের কর্মচারীরা করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘তারা মনে করেছে, মামলা করলে খালেদা জিয়া ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দুর্বল করা যাবে। আগামী নির্বাচনে তারা আবার ২০১৪ সালের মতো আরও একটি নির্বাচন করতে পারবে। এই তাদের পরিকল্পনা। এটা কখনও বাস্তবায়ন হবে না। তাদের মনে রাখতে হবে ২০১৪ ও ১৮ সাল এক নয়।’

জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশের মানুষ আমাদের কাছ থেকে জানতে চায়, আমরা কি রাজনৈতিক সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলেছি? গণতন্ত্র মানেই হচ্ছে গণতান্ত্রিক চর্চা, পরমত সহিষ্ণুতা। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তা আর নেই। এখানে সহনশীলতা বলতে কিছুই নেই। এগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের সংসদকে কার্যকর করতে হবে।’

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমার দুই বার দেখা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা আমার জন্য কোনও চিন্তা করবেন না। আপনারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। নিচের কোর্টে গেছি। কিন্তু নিচের কোর্টের সেকশনে যারা কাজ করেন, তারা সরকারের কর্মচারী। আজ নিম্ন আদালতের বিচারকরাসহ সবাই নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত। যে শৃঙ্খলা বিধি করা হয়েছে, সেটার কারণে নিম্ন আদালতের ওপর সুপ্রিম কোর্টের আগে যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, সেটা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে গেছে। সব কিছুই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। খালেদা জিয়ার মুক্তি একদিনের জন্য বিলম্বিত হলে তার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ বাড়বে। বিলম্ব করতে চান, করেন। আমার নেত্রীর কষ্ট হবে কিন্তু তার জনপ্রিয়তা কমাতে পারবেন না। যতই ষড়যন্ত্র করুন না কেন, তিনি মুক্ত হয়েই আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা নির্বাচনে আসবো।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘এমন কোনও জায়গা নেই, যেখানে কোনও দুর্নীতি নেই। দুর্নীতির হিসাব একদিন বাংলাদেশের মানুষ নেবে।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।