পড়ালেখার খরচ মেটাতে চা-পান বিক্রি করেন ছাত্রলীগ নেতা

সাংসারিক অভাব ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করছেন মেধাবী শিক্ষার্থী সোলায়মান হাসান খান।

রাজনীতিতে সক্রিয় সোলায়মান নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে। ছাত্রলীগের সিনিয়র এই নেতা নিজের পড়ালেখার খরচ মেটাতে বঙ্গবন্ধু হলের এক কোনে বিক্রি করছেন চা পান। গত তিনমাস ধরে শুরু করেছেন এই ব্যবসা।

সোলায়মান বলেন, অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল হলেও সৎ ভাবে বেঁচে থাকার শিক্ষা পেয়েছি পরিবার থেকে। আমার রাজনৈতিক পদকে ব্যবহার করে অন্য কোন উপায়ে সুন্দর জীবন কাটাতে পারতাম। কিন্তু তাতে শান্তি পেতাম না। তাই এই চায়ের দোকানকেই বেছে নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগ একটি ইতিহাসের নাম। ছাত্রলীগের রয়েছে দীর্ঘ ত্যাগের ইতিহাস। আর সেই সংগঠনের নেতা হয়ে আমি অসৎ জীবন-যাপন করতে পারিনা।

তার চায়ের দোকান নিয়ে কারও বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সোলায়মান বলেন, আমি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বারবার সহযোগিতা কামনা করেও কোন ফল পাইনি। তারপর যখন এই পথ বেছে নিলাম তখন প্রশাসন আমার এই দোকান বন্ধ করতে বলে। কিন্তু বেঁচে থাকার তাগিদে আমকে এই দোকান চালাতে হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্বন্ধে সোলায়মান বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে দেশের জন্য রাজনীতি করতে চাই। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে একজন আদর্শ সৈনিক হতে চাই।

সাক্ষাতকারের শেষে সৎ জীবন যাপনে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন সোলায়মান।

বেরোবি ক্যাম্পাসে সোলায়মান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সকলের পরিচিত সোলায়মান এখন অনেকের আদর্শ। ক্যাম্পাসের সর্বত্রই চলে তাকে নিয়ে আলোচনা। সোলায়মানের শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব, দলীয় নেতাকর্মীসহ সকলেই তাকে নিয়ে গর্বিত।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে নেত্রকোনা জেলার দক্ষিণ সাতপাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সোলায় হাসান খান। দুই ভাই তিনবোনের সবার বড় সোলায়মান ১৯৯৪ সালে রংপুরে আসেন। রংপুর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে একই বিভাগে এমবিএ করছেন সোলায়মান হাসান। সূত্র: সিলেটভিউ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।