ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত

বসন্তকে বলা হয় ঋতুরাজ। ফাল্গুন আর চৈত্র এই দু’মাস নিয়ে বসন্ত কাল। ফাল্গুনের নাম এসেছে ‘উত্তরফাল্গুনী’ নামের এক তারার নাম থেকে, আকাশের বুকে তারারা যেমন মিটমিট করে জ্বলে, ঠিক তেমনি বাঙালির প্রাণেও থাকে পহেলা ফাল্গুন।

আজ পহেলা ফাল্গুন। ২৪ বছর আগে ১৪০১ সাল থেকে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন বসন্তের উৎসব পালন করার রীতি উদযাপন শুরু হয়।
প্রকৃতির চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী বন-বনান্তে কাননে কাননে পারিজাতের রঙের কোলাহলে ভরে উঠেছে চারদিক। কচি পাতায় আলোর নাচনের মতোই বাঙালির মনেও লেগেছে রঙের দোলা। হৃদয় হয়েছে উচাটন।

পাতার আড়ালে-আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহুকুহু ডাক, ব্যাকুল করে তুলবে অনেক বিরহী অন্তর। কবি তাই বলেছেন, ‘সে কি আমায় নেবে চিনে/ এই নব ফাল্গুনের দিনে…’।

তবে বসন্তের সমীরণ বলছে এ ঋতু সব সময়ই বাঙালির মিলনের বার্তা বহন করে। কারণ বসন্তেই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল।

এ দিনেই অসংখ্য রমণী বাসন্তী রঙে নিজেদের রাঙিয়ে রাজধানীর রাজপথ, পার্ক, বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরসহ পুরো নগরী সুশোভিত করে তোলে। বসন্তের পূর্ণতার এ দোলা ছড়িয়ে পড়ুক বাংলাদেশের সর্বত্র এবং সারা পৃথিবীর সকল বাঙালির ঘরে ঘরে। কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরা পাতার শুকনো নূপুরের নিক্কণ, প্রকৃতির মিলন, সব এ বসন্তেই।

তাই বসন্ত মানে পূর্ণতা। বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানে একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের ঋতু বসন্তই মনকে সাজায় বাসন্তী রঙে, মানুষকে করে আনমনা।

কবিও তাই ব্যক্ত করেছেন, ‘ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। বসন্তের এ সময়ে শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। গাছে গাছে নতুন পাতা, সি্নগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীরগতিতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে চলা জানান দেয় নতুন কিছুর।

বসন্তের এই দিনে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন আয়োজনে মুখরিত থাকে এই নগরী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।