ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল

সংবাদিককে মেয়রের হুমকি— ‘তোকে কাটে ফালায় দিব’

দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার রাণীশংকৈল প্রতিনিধি খুরশিদ আলম শাওনকে এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকি দিয়ে বলা কথাগুলো ফোনে রেকর্ড করে রেখেছেন শাওন।

বিএন উচ্চবিদ্যালয় থেকে খুনিয়ার দিঘি পর্যন্ত ছয় কিলো রাস্তায় নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ চলছে বলে ২৮ জানুয়ারি একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। কেন এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে এ প্রসঙ্গ তুলে মেয়র ওই সাংবাদিককে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করার পাশাপাশি কেটে ফেলার হুমকি দেন।

এ প্রসঙ্গে শাওন বলেন, “মেয়র আলমগীর আমাকে মা-বাপ তুলে গালাগালি করার পাশাপাশি হাত-পা ভেঙে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এর আগেও মেয়র আলমগীর এক সাংবাদিককে মারধর করেছিলেন। সে ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছিল। আর কোনো সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করবেন না বলে মুচলেকা দিয়ে সে যাত্রায় রেহাই পান।”

এ ঘটনায় শাওন রাণীশংকৈল থানায় জিডি করেছেন।

তবে মেয়র আলমগীর ‘গালিগালাজ’ করার কথা স্বীকার করলেও ‘হত্যার হুমকির’ কথা অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, “সাংবাদিক শাওন ‘জাইকার রাস্তার কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ’ তুলে সংবাদ প্রকাশ করেছেন; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ জন্য আমি তাকে ফোন দিয়ে গালিগালাজ করেছি। হত্যার হুমকি দেইনি।”

রাণীশংকৈল থানার ওসি মো. আব্দুল মান্নান ‘ঘটনাটি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বলে জানিয়েছেন।

সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিকরা। রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোবারক আলী নিন্দা জানিয়ে বলেন, “মেয়র আলমগীর সরকার পত্রিকায় প্রতিবাদ দিতে পারতেন। তা না করে তিনি সাংবাদিককে ফোন করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মিঠু, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে—র সভাপতি মনসুর আলী, ঠাকুরগাঁও টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফিরোজ আমিন সরকার ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল আহমেদসহ জেলার অন্য সাংবাদিকরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তারা মেয়র আলমগীরের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।

One thought on “সংবাদিককে মেয়রের হুমকি— ‘তোকে কাটে ফালায় দিব’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।