রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াং হি লি

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের বর্ণনা শুনলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াং হি লি।

আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের দমদমিয়া নেচার পার্কে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১৬ নারী ও পুরুষদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ সময় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও ক্যাম্পে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কর্তকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে তিনি বেলা ১১টার দিকে টেকনাফের নয়াপাড়া মৌচনি নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে দেখেন। এরপর তার টেকনাফের হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা শিবির (পুতিন পাহাড়) পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

নেচার পার্কের সাক্ষাতে রোহিঙ্গাদের মুখে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইনদের চালানো নির্যাতনের বর্ণনা ধৈর্য সহকারে শোনেন ইয়াং হি লি।

মিয়ানমারের মংডুর হায়নহালি পাড়া এলাকার নূর জাহান বলেন, সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে, নারীদের গণধর্ষণ করেছে, বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। ফলে এপাড়ে পালিয়ে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছি। মিয়ানমারে আমাদের জীবন নিরাপদ নয়। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করলে ফিরে যাওয়ার কথা চিন্তা করা যায়। তা না হলে আমাদের এপারে গুলি করে মেরে ফেলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সন্ত্রাস দমনের নামে রাখাইন রাজ্যে সহিংস অভিযান চালায়। এ সময় তারা নির্যাতন, বাড়িঘরে আগুন ও গণধর্ষণ চালালে রোহিঙ্গারা পালিয়ে  বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। এ অভিযান শুরুর পর থেকে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ-মিয়ানমার চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এর মধ্যেই টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।