গৌতম রায়

আমার চোখে শামীম-আইভী দ্বন্দ্বের নেপথ্য রহস্য

নারায়নগঞ্জে বার বার শামীম আইভীর দ্বন্দ্ব জাতীয় সংবাদ হচ্ছে। মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে লীড নিউজ হয়ে। নারায়নগঞ্জবাসী দু’ভাগে বিভক্ত হচ্ছে। আরেক পক্ষ নেপথ্যে হাসছে এবং মজা লুটছে। মেয়র আইভীর জনপ্রিয়তাকে পূঁজি করে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল সাফল্যের পথে এগোতে চাইছে। পুরো দেশবাসী জানতে পারছে না নেপথ্যে কি হিংস্র খেলা চলছে। তারা মিডিয়ায় যা দেখছে তাতেই বিশ্বাস নিয়ে ভাবছে।

সবাইকে বুঝতে হবে শামীম ওসমান যতটা আইভীর শত্রু, তার চেয়ে অনেক বেশী শত্রু মিডিয়া আর আওয়ামী বিরোধী শক্তি। অর্থাৎ তৃতীয় পক্ষ। নারায়নগঞ্জে শামীম ওসমানকে দমন করতে পারলেই দমন করা যাবে আওয়ামী লীগকে। এটাই হচ্ছে মহাসত্য। যতক্ষন শামীম ওসমান থাকবেন ততক্ষন এই শহরে আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে থাকবে তথা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি কেউ ভাংতে পারবে না। তাই আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এটা ভালো করে বুঝেন বলেই তাকে সমর্থন করেন। পাশে থাকার ঘোষনা দেন।

সেই সব অপশক্তির অপপ্রচারেই আজ পা দিচ্ছে আওয়ামী ঘরনার লোকজন। অবশ্যই নির্দ্বিধায় বলবো- শামীম ওসমান আগের চেয়ে অনেক সংযত। জেলা আওয়ামী লীগের সিংহভাগ নেতা কর্মী তার সাথে থাকলেও নিজ দলের বিরুদ্ধে সেই শক্তি প্রয়োগ তিনি করছেন না। যেটা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে করে থাকেন।

আমি দেখেছি, যতটা তিনি ধৈর্য্যের পরিচয় দিচ্ছেন ঠিক ততটাই তাকে দুর্বল ভেবে পায়ে পা দিয়ে সংঘাতের জন্য উস্কানী দেয়া হচ্ছে। বাস্তবতা বুঝতে হবে। বাস্তবতা এটাই যে জনপ্রিয় মেয়র আইভীকে সামনে রেখেই কুচক্রী মহল শামীম ওসমানকে দমনে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ওরা কোনদিন শামীম আইভীর মাঝে সুসম্পর্ক থাকতে দিবে না। আর আগামী জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনীভূত হবে, এ খেলা ততই জমজমাট হবে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের এই মোক্ষম সূযোগ কি ওরা নস্যাৎ করবে? অতএব শামীম ওসমানকে সন্ত্রাসী, সন্ত্রাসের গডফাদার তকমা দিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করার দূরভিসন্ধি অব্যহত রয়েছে। আর সবাই জানেন এভাবে না হলে তাকে দমন করা যাবে না। আইভীর সততা আর জনপ্রিয়তাই এখন নেপথ্য শক্তির শক্ত হাতিয়ার। যা এই বন্দর নগরীকে বার বার অশান্ত করে তুলবে।

লেখক : নারায়নগঞ্জের প্রবীন সাংবাদিক ও সম্পাদক, প্রবাসীকন্ঠ, মালয়েশিয়া।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।