শ্রীপুর থানার এএসআইয়ের কাণ্ড

এক তরুণী তাঁর রোগের কথা জানাতে ওষুধের দোকানের পেছনের কক্ষে ডেকে নেন পল্লী চিকিৎসককে। রোগের বর্ণনা দেওয়ার একপর্যায়ে চিৎকার করে ওঠেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে হাজির হয়ে যান পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও দুই কনস্টেবল। পুলিশের কাছে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন ওই তরুণী।

পুলিশ পল্লী চিকিৎসককে আটক করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।

কিন্তু তরুণীকে রোগী সাজিয়ে নিরীহ ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায়ের এ অভিনব ঘটনা টের পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। তারা ওই এএসআইসহ পুলিশের তিন সদস্যকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় উত্তেজিত জনতা প্রায় আধাঘণ্টা পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কও অবরোধ করে রাখে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া নতুনবাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

ওই এএসআইয়ের নাম লুত্ফর রহমান। তিনি শ্রীপুর থানায় কর্মরত। পুলিশের ‘সোর্স’ হিসেবে পরিচিত ওই তরুণীর পরিচয় জানা যায়নি।

খবর পেয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পৌঁছে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে এএসআই লুত্ফর রহমান ও দুই কনস্টেবলকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাত প্রায় ৯টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণী বাজারের হাসান ফার্মেসিতে আসেন। সেখানে ওষুধ ব্যবসায়ী পল্লী চিকিৎসক হাসান মাহমুদের কাছে গিয়ে তিনি অসুস্থ বলে জানান। পরে রোগের কথা জানাতে দোকানের পেছনের কক্ষে ডেকে নিয়ে যান হাসানকে।

হাসান মাহমুদ বলেন, দোকানের পেছনের কক্ষে যাওয়ার পর তাঁকে জড়িয়ে ধরে তরুণীটি চিৎকার করে ওঠেন। তাত্ক্ষণিক ওই কক্ষে ঢোকেন এএসআই লুত্ফর রহমান ও দুই কনস্টেবল। তাঁরা তরুণীর কাছে চিৎকার করার কারণ জানতে চান। তরুণী তখন অভিযোগ করেন যে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন তিনি। পরে তাঁকে আটক করে দুই লাখ টাকা দাবি করেন এএসআই লুত্ফর।

বাজারের বিসমিল্লাহ ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম মিয়া বলেন, প্রতারণা করে টাকা আদায়ের চেষ্টা হচ্ছে—এমনটি আঁচ করতে পেরে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা হাসান ফার্মেসির ভেতর ওই তরুণী, এএসআই লুত্ফর ও দুই কনস্টেবলকে অবরুদ্ধ করে রাখে। সেই সঙ্গে তারা মহাসড়কও অবরোধ করে রাখে।

খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পৌঁছে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় জনতা।

সেলিম মিয়া অভিযোগ করেন, গত রবিবার রাতে এই তরুণীকেই রোগী সাজিয়ে একই কায়দায় পাশের ওষুধ ব্যবসায়ী এ বি এম মুসার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন এএসআই লুত্ফর রহমান।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র : কালের কন্ঠ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।