পেটের দায়ে প্লাস্টিক ফুল বিক্রি করে মানিক

মানিক মিয়া একজন ফুল বিক্রেতা। অল্প বয়সেই যাকে নেমে পরতে হয়েছে জীবন সংগ্রামে।
তার বাড়ি নওগা জেলার আবাদ পুকুর গ্রামে। ২০১৭ সনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরিক্ষায় ভালো ফলাফল করে সে। কিন্তু পরিাবের আর্থিক অসচ্ছলতা থাকায় ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হতে পারেনি।
মানিকের পরিবারে রয়েছে পাঁচ জন সদস্য। তার বাবা আব্দুল আজিজ একজন ভ্যানচালক। তিন ছেলে-মেয়ের পড়াশুনোর খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব না হওয়াতে দুই বছর আগে বড় মেয়েকে বিয়ে দেন।  ছোট ছেলে তৃতীয় শেণীতে পড়ছে।
পরিবারের দুঃখ দুর্দশা দেখে মেজো ছেলে মানিক এক নিকটআত্মীয়ের  সাথে এক মাস আগে চলে আসে রংপুরে। বিভিন্ন কাজের খোঁজ করার পর বাবার জামানো টাকা দিয়ে  প্লাস্টিকের ফুলের ব্যবসায় নামে এই শিশুটি। প্রতি সপ্তাহে বগুড়ার সান্তাহার থেকে ফুল কিনে নিয়ে এসে রংপুর নগরীর পার্কগুলো এবং বিভিন্ন কলেজের সামনে বিক্রি করে , তবে দিনের অধিকাংশ সময় কারমাইকেল কলেজে দেখা যায় তাকে।
শিশুটি জানায় বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ফুল বিক্রি করে এবং রাত হলে কলেজের অডিটোরিয়াম ভবনের বারান্দায় কনকনে শীতের রাতে ঘুমায় , সকাল হলেই আবারো ফুল নিয়ে ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন স্থানে। ১ টি ফুল সে ৮ টাকায় বগুড়া থেকে এনে ১০ টাকায় বিক্রি করে, অতিরিক্ত যে টাকা বিক্রি করে সেটি দিয়ে তিন বেলা হোটেলে খায়, জমাতে পারেনা কিছুই তাই বাড়িতেও কোনো টাকা পাঠায়না।
রংপুরে আসার পর তার বাবা-মায়ের সাথে কখনো যোগাযোগ করতে পারেনি সে। তবে চলে যেতে চায় নিজের ছোট্ট সেই গ্রামে। আবারো স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করতে চায়। ছুটে বেড়াতে চায় খেলার মাঠে। কিন্তু অসচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় পুরন হচ্ছেনা তার সেই ইচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।